
আকির হোসেন,মোহনগঞ্জ: দৃষ্টির আলো কেড়ে নিয়েছে প্রকৃতি, কিন্তু হৃদয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে সুরের এক অনন্ত প্রদীপ। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের ছোট পাইকুরা গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী লালন জীবনের শত প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে দোতারা সহ প্রায় ৭ থেকে ৮টি বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন সবাইকে। দোতারার সুর মানেই বাংলার মাটির এক অব্যাখ্যায়িত টান। নদী, হাওর আর ভাটি অঞ্চলের বাতাস যেন দোতারার তারে এসে একাকার হয়ে যায়। এটি এমন এক বাদ্যযন্ত্র, যার সহজ-সরল ধ্বনি সরাসরি মানুষের বুকের ভেতর গিয়ে দোলা দেয়। স্থানীয় কবি ও সংগঠক আরিফুল ইসলাম পিয়াস বলেন, দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও সুরের প্রতি গভীর টানে তিনি নিজেকে মুড়ে রেখেছেন লোকজ সংস্কৃতির আবহে। কংস নদীর পাড় কিংবা হাওরের থমথমে বাতাস—তাঁর আঙুলের ছোঁয়ায় দোতারার তারে যখন সুর বেজে ওঠে, তখন তা মুগ্ধ করে চারপাশের মানুষজনকে। শুধু দোতারাই নয়, তবলা, বেহালা সহ প্রায় ৭-৮টি ভিন্ন ভিন্ন বাদ্যযন্ত্র অত্যন্ত নিপুণভাবে বাজাতে পারেন এই গুণী শিল্পী। এলাকাবাসীর মতে, দৃষ্টিহীনতা কখনো লালনের প্রবল ইচ্ছাশক্তিকে দমাতে পারেনি। তাঁর হাতের জাদুকরী সুর যেন কংস তীরের হাওরাঞ্চলকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো তালিম ছাড়াই কেবল মনের টানে গড়ে ওঠা তাঁর এই প্রতিভা এলাকার লোকসংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন। উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা পেলে লালনের এই প্রতিভার আলো আরও ছড়িয়ে পড়ত এবং তার জীবনসংগ্রাম কিছুটা হলেও সহজ হোক—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমী ও এলাকাবাসীর।





























