
জালাল উদ্দিন, গুরুদাসপুর (নাটোর)
কেউ অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন, কারও মেধা আছে কিন্তু অর্থের অভাবে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থমকে যাওয়ার উপক্রম। আবার কোনো ধর্মীয় বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন সামলানোও কঠিন হয়ে পড়ে। এমন মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়িয়েছে সামাজিক ও মানবিক প্রতিষ্ঠান রাশিদ-নিলু ফাউন্ডেশন।
প্রতিবছরের মতো এবারও মানবিকতার সেই ধারাবাহিকতায় অসুস্থ রোগী, কৃতি শিক্ষার্থী, ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাঝে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ফাউন্ডেশনটি। বুধবার বিকেল ৪টায় নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোট ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান বিতরণ করা হয়।
আমেরিকা প্রবাসী ও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১১০ জন কৃতি শিক্ষার্থী, ১৫টি ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং ১১০ জন দুস্থ-অসহায় রোগীর হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন।
অনুদান বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা আমিরুল ইসলাম মাস্টার সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ, অধ্যক্ষ আফছার আলী, প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দীন সরদার, সাংবাদিক আলী আক্কাছ, প্রভাষক শহিদুল ইসলাম ও শিক্ষার্থী সাবিহা ইসলামসহ অনেকে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক চলনবিল প্রবাহের প্রকাশক ও সম্পাদক মাহমুদুল হক খোকন।
সহায়তায় ফিরছে বাঁচার সাহস.......
অনুদান পাওয়া অসুস্থ শুকুর মাহমুদ, মো. খুদু, রোকেয়া বেগমসহ অনেকে বলেন, চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। রাশিদ-নিলু ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তা তাদের সেই কঠিন সময়ে নতুন করে বাঁচার সাহস জুগিয়েছে।
তাদের ভাষায়, শুধু অর্থ নয়, এই সহায়তা তাদের মনে এই বিশ্বাসও তৈরি করেছে—বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষ এখনো সমাজে আছেন।
মেধার স্বীকৃতি, স্বপ্ন দেখার প্রেরণা......
অনুদান পাওয়া কৃতি শিক্ষার্থী সাবিহা ইসলাম বলেন, উপবৃত্তির অর্থ পেয়ে তিনি যেমন উপকৃত হয়েছেন, তেমনি পড়াশোনায় আরও ভালো করার অনুপ্রেরণাও পেয়েছেন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার এমন উদ্যোগের জন্য তিনি রাশিদ-নিলু ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
ফাউন্ডেশনের এমন উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তানদের স্বপ্ন পূরণের পথও কিছুটা সহজ হচ্ছে।
মানবিকতার পথেই এগিয়ে যেতে চান উত্তরসূরিরাও
২০২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আর্তমানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছে রাশিদ-নিলু ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলামের এই মানবিক উদ্যোগকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তাঁর দুই ছেলে রিদন তালহা ইবনে রাশিদ ও জুবায়ের ইসলাম রাহাত।
তাঁরা জানান, বাবা-মায়ের দেখানো মানবিকতার পথ অনুসরণ করে ভবিষ্যতে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে ভূমিকা রাখতে চান।
ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম বলেন, ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে রাশিদ-নিলু ফাউন্ডেশন আর্তমানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর এই কার্যক্রম আগামীতে আরও বড় পরিসরে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
গুরুদাসপুরের এই অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠান যেন কেবল অর্থ সহায়তার আয়োজন ছিল না; বরং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মেধাবীদের স্বপ্ন দেখানো এবং সমাজে মানবিকতার চর্চাকে আরও শক্তিশালী করার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।





























