
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ৭নং তালুককাননপুর ইউনিয়নের সুন্দইল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছে চরম অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, বারান্দা, অফিস কক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন এমনকি প্রধান শিক্ষকের রুমেও ময়লা-আবর্জনা ও ধুলাবালির স্তূপ জমে থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে জমে আছে ধুলাবালি ও ময়লা। অনেক বেঞ্চ-ডেস্ক অপরিষ্কার অবস্থায় রয়েছে। বারান্দাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে আবর্জনা। কোথাও কোথাও দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছে। বিদ্যালয়ের পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়ে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নেই। ফলে প্রতিদিন নোংরা পরিবেশে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে তারা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ জেসমিন বলেন,বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতার জন্য পর্যাপ্ত জনবল নেই। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে পরিবেশ ঠিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিছুদিন ধরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় সমস্যা হয়েছে, তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, অর্থ সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবো। বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষক জানান, শিক্ষকদের রুমও অনেক সময় অপরিষ্কার থাকে। ধুলাবালির কারণে স্বাভাবিক পরিবেশে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা দরকার। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া অভিযোগ করে বলে,প্রতিদিন ধুলাবালির মধ্যে ক্লাস করতে হয়। বেঞ্চে বসতে গেলেও আগে পরিষ্কার করতে হয়। শ্রেণিকক্ষ ও বারান্দায় এত ময়লা যে অনেক সময় দুর্গন্ধে বসে থাকা কঠিন হয়ে যায়। এতে পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট হয়। বিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর না থাকলে পড়ালেখার আগ্রহও কমে যায়। অভিভাবকরা বলছেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ যদি এতটা নোংরা হয়, তাহলে সেখানে শিক্ষার্থীদের সুস্থভাবে পড়াশোনা করা কঠিন। সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আমরা চিন্তায় থাকি। ধুলাবালি ও ময়লার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়। গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান মুঠো ফোনে বলেন,বিষয়টি আমাদের নজরে এলে অবশ্যই তদন্ত করা হবে। যদি বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, “বিদ্যালয়ের পরিবেশ শিক্ষাবান্ধব রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয় এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা দ্রুত বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার কারখানা। অথচ সুন্দইল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান চিত্র সেই আদর্শ ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।





























