
মোঃকাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ প্রশাসনের অভিযান হয়, ড্রেজার সরিয়ে নেওয়া হয় কিছুদিন পর আবারও একই নদীতে বসে ড্রেজার। এভাবেই বারবার অভিযান ও পুনরায় বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের কাটাখালী নদীতে। দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশপুকুর গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে রুস্তম বিশপুকুর জামে মসজিদের পাশের কাটাখালী নদী থেকে নিয়মিত ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হলেও স্থায়ীভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে দাবি তাদের। ফলে স্থানীয়দের প্রশ্ন—বারবার অভিযান পরিচালনার পরও একই জায়গায় কীভাবে আবার ড্রেজার বসে? অভিযান পরিচালনার পর নজরদারি না থাকার সুযোগেই কি ফের বালু উত্তোলন শুরু হয়? নাকি এর পেছনে রয়েছে কারও প্রভাব? স্থানীয়দের ভাষ্য, কাটাখালী নদীর ওই এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতীতে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সময় ড্রেজার সরিয়ে নেওয়া হলেও কয়েক দিন বা কিছু সময় পর আবারও একই এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করা হয় বলে অভিযোগ। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ছে। তাদের ভাষ্য, অভিযান পরিচালনার পর যদি সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিয়মিত নজরদারি করা হতো, তাহলে একই স্থান থেকে বারবার বালু উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা নয়। স্থানীয়রা বলছেন, নদী থেকে এভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন, নদীতীর ক্ষয় ও ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব পড়তে পারে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, রাস্তা, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনায়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান সাময়িকভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করলেও পরে আবার একই কর্মকাণ্ড শুরু হচ্ছে। এর পেছনে কারও প্রভাব বা কোনো ‘অদৃশ্য শক্তি’ কাজ করছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের দাবি, শুধু ড্রেজার সরিয়ে দেওয়া নয়, নদী থেকে বালু উত্তোলনের বৈধতা, বালু উত্তোলনের অনুমতি বা ইজারা রয়েছে কি না এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বালু উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রুস্তমের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে এবং নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি বালু তুলছি, তো আপনি সাংবাদিক কেন আসছেন? আমি বালু তুলব, আপনার কী করার আছে—আপনি করেন।”তাঁর কাছে বালু উত্তোলনের বৈধতা কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো অনুমতিপত্র রয়েছে কি না, জানতে চাওয়া হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন না ধরায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।





























