
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও বাজারের একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বকেয়া বেতন নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারীকে লাঞ্ছিত ও তার স্বামীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভিডিওটি সম্পাদিত এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে না বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত গার্মেন্টস মালিক। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, উপজেলার ডাঙ্গেরগাঁও এলাকার বাসিন্দা হিরু (৩৮), তার স্ত্রী বিলকিস (৩৫) এবং মেয়ে রিপা (২২) এ ঘটনার শিকার। অপরদিকে অভিযুক্ত আঙ্গুর মিয়া (৫০) উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং করগাঁও বাজারের ইক্বরা গার্মেন্টসের মালিক।বিলকিসের অভিযোগ, তার মেয়ে রিপা প্রায় চার মাস ইক্বরা গার্মেন্টসে কাজ করেন। রোজার ঈদের প্রায় এক মাস আগে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। চার মাসের মধ্যে তিন মাসের বেতন পরিশোধ করা হলেও শেষ এক মাসের বেতন বকেয়া থেকে যায়। এরপর কয়েক মাস ধরে পাওনা বেতন চাইতে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়।তিনি আরও দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের মালিকের আচরণে অস্বস্তি বোধ করায় তার মেয়ে চাকরি ছেড়ে দেন। চাকরি ছাড়ার সময় বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে তা আর দেওয়া হয়নি।বিলকিস জানান, গত বুধবার (১ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে তিনি মেয়ের বকেয়া বেতন আনতে গার্মেন্টসে যান। সেখানে বেতন চাইলে মালিক তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির সময় তার হাতে থাকা ব্যাগ টেনে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তার স্বামী হিরু ঘটনাস্থলে গেলে কয়েকজন মিলে তাকে মারধর করেন বলেও দাবি করেন।তার ভাষ্য অনুযায়ী, মারধরের সময় হিরুর পরনের কাপড় খুলে গিয়ে তিনি জনসম্মুখে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। এতে তার গাল, চোখ ও পায়ে আঘাত লাগে।এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে একজন ব্যক্তিকে কয়েকজন মিলে মারধর করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।বিলকিস আরও অভিযোগ করেন, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রকাশকারীকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় নিরাপত্তার আশঙ্কায় তারা এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। আগামী সোমবার স্থানীয়ভাবে একটি সালিস বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।অন্যদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইক্বরা গার্মেন্টসের মালিক আঙ্গুর মিয়া। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সম্পাদিত এবং এতে ঘটনার সম্পূর্ণ চিত্র নেই।আঙ্গুর মিয়ার দাবি, প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের বেতন-ভাতাসহ প্রশাসনিক বিষয়গুলো দেখভালের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার রয়েছেন এবং তার জানামতে কোনো শ্রমিকের বেতন বকেয়া নেই। আর যদি বকেয়া থাকে তাহলে তা অফিসের কাগজপত্র দেখে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিবে।তার ভাষ্য, ঘটনার দিন দুপুরে ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাসায় ফেরার পথে ওই স্বামী-স্ত্রী তার পথরোধ করে ইট দিয়ে হামলার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করলে ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।তিনি আরও দাবি করেন, পরদিন প্রায় অর্ধশতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। এ সময় জেনারেটর ভাঙচুর করা হয় এবং নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান।আঙ্গুর মিয়া বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিএনপির নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে আগামী সোমবার একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বিষয়টির সমাধান হবে বলে তিনি আশা করছেন।তিনি আরও বলেন, গত তিন বছর ধরে তিনি ইক্বরা গার্মেন্টস পরিচালনা করছেন এবং সেখানে প্রায় ১০০ জন শ্রমিক কাজ করেন। উৎপাদিত প্যান্ট বিদেশে ক্রেতাদের কাছে রপ্তানি করা হয়, যার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। তার দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি এখনো আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। স্থানীয়ভাবে সালিসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উভয় পক্ষই জানিয়েছেন। দু'পক্ষ স্থানীয়ভাবে সমাধানের পক্ষে রয়েছেন বলে জানান।




























