
সাআদ মাহমুদ, হালুয়াঘাট প্রতিনিধি
অবশেষে মাথার ওপর একটি স্থায়ী ছাদের অভাব আর মাথা গোঁজার আকুল আকুতি শেষ হলো। দুঃখ ঘুচল ধোবাউড়া উপজেলার অসহায় বিধবা রিনা রিছিলের। ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো: সালমান ওমর রুবেল-এর নিজস্ব অর্থায়নে এই গৃহহীন পরিবারটিকে একটি নবনির্মিত টিনসেট ঘর উপহার দেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার হালুয়াঘাট উপজেলার ৫নং গাজিরভিটা ইউনিয়নের নামছাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রিনা রিছিল-এর পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নবনির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়।
মানবিক উদ্যোগে পাশে এমপি:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নামছাপাড়া গ্রামের বিধবা রিনা রিছিলের পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে একটি সুনির্দিষ্ট আবাসের অভাবে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। বিষয়টি সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো: সালমান ওমর রুবেলের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি দ্রুত মানবিক পদক্ষেপ নেন। সরকারি কোনো তহবিল বা অনুদানের অপেক্ষা না করে, সম্পূর্ণ নিজের প্রাপ্ত সম্মানী দিয়ে এই ঘরটি নির্মাণ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত রিনা রিছিল ও তার পরিবারের সদস্যরা সংসদ সদস্যের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন:
"আমাদের মাথার ওপর কোনো স্থায়ী ছাদ ছিল না। রোদ-বৃষ্টিতে চরম কষ্টে দিন কাটত। এমপি মহোদয় আমাদের এই বড় দুঃখ দূর করেছেন। আমরা উনার দীর্ঘায়ু ও সাফল্য কামনা করি।"
এলাকাবাসীর প্রশংসা:
এ বিষয়ে গাজিরভিটা ইউনিয়নের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী জানান, মাননীয় সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল সবসময়ই সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টে পাশে থাকেন। সরকারি বরাদ্দের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব অর্থায়নে এভাবে একজন বিধবা ও অসহায় মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে এগিয়ে আসা সত্যিই বিরল এবং প্রশংসনীয়। এই ঘর উপহারের মাধ্যমে পরিবারটি নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে।
ঘর হস্তান্তরকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল তাঁর আবেগঘন বক্তব্যে এক অভূতপূর্ব স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, “এই রিনা রিছিল নির্বাচনকালীন সময়ে ভিক্ষা করে অর্জিত তাঁর ৭০ টাকা আমার নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য উপহার হিসেবে আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তাঁর সেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও ত্যাগ আমার হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমার প্রথম মাসের প্রাপ্য সম্মানীর পুরো টাকা দিয়ে তাই আমি ওনাকে এই ঘরটি তৈরি করে দিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, সমাজে এখনো অনেক মানুষ রয়েছে যারা মাথা গোঁজার মতো নিরাপদ আশ্রয় থেকে বঞ্চিত। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। এই ঘরটি শুধু চার দেয়াল নয়, এটি একটি পরিবারের নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রতীক। ভবিষ্যতেও এলাকার অসহায় মানুষের জন্য এমন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।




























