
ইয়ার রহমান আনান, কক্সবাজার ব্যুরোদীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে কক্সবাজারের পেকুয়ার বারবাকিয়া-রাজাখালী সংযোগ নোয়াখালী সেতু। ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির মূল কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে দুই প্রান্তের সংযোগ সড়কের কিছু কাজ বাকি থাকায় যান চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর তত্ত্বাবধানে নির্মিত এ সেতুর মূল অবকাঠামোর কাজ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবছার এন্টারপ্রাইজ। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সংযোগ সড়কের অবশিষ্ট কাজ শেষ হলেই সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হলেও নানা জটিলতায় কয়েক দফায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে নির্মাণকাজ থমকে থাকায় বারবাকিয়া ও রাজাখালী ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়তে থাকে।বর্ষা এলেই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ত। সেতুর বিকল্প হিসেবে সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহার করে যানবাহন চলাচল করতে হতো। ফলে একদিকে যেমন সময় বেশি লাগত, অন্যদিকে বেড়ে যেত যাতায়াতের ঝুঁকি ও ব্যয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নোয়াখালী সেতু চালু হলে এ অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। শুধু বারবাকিয়া ও রাজাখালী নয়, মগনামা ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী বাঁশখালী উপজেলার পুইছড়ি ইউনিয়নের মানুষও এ সেতুর সুফল পাবেন। এর ফলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন যোগাযোগে সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমবে বলে মনে করছেন তারা।বারবাকিয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এ পথে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। দীর্ঘদিন সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। এখন সেতুর কাজ শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। এটি চালু হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমে যাবে।বারবাকিয়ার বাসিন্দা করিম বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা ভোগান্তির পর সেতুটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন দ্রুত দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি খুলে দেওয়া প্রয়োজন। সেতুটি চালু হলে পুরো এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।সিএনজি চালক নাছির উদ্দিন বলেন, সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় এতদিন পাশের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়েই যানবাহন চালাতে হয়েছে। এতে যাত্রীদের যেমন দুর্ভোগ হয়েছে, তেমনি সময় ও খরচও বেড়েছে। সেতুটি চালু হলে এ সমস্যা আর থাকবে না বলে আশা করছেন তিনি।উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বারবাকিয়ার বাসিন্দা ইকবাল হোছাইন বলেন, বিভিন্ন জটিলতার কারণে সেতুটির নির্মাণকাজ দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। সাংবাদিকদের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের পর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বর্তমানে সেতুর মূল কাজ শেষ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সংযোগ সড়কের বাকি কাজ শেষ করে সেতুটি চালু করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবছার এন্টারপ্রাইজের মালিক কফিল বলেন, আগের ঠিকাদার কাজ অসম্পূর্ণ রেখে চলে যাওয়ার পর নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে তারা সেতুটির নির্মাণকাজের দায়িত্ব পান। বর্তমানে সেতুর মূল নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। দুই পাশের সংযোগ সড়কের যে কাজ বাকি রয়েছে, তা দ্রুত শেষ করে সেতুটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।দীর্ঘ প্রতীক্ষা, বারবার নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং স্থানীয়দের দুর্ভোগের পর এখন সেতুটির মূল অবকাঠামো দৃশ্যমান হওয়ায় আশাবাদী দুই ইউনিয়নের মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, আর কোনো বিলম্ব না করে সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করে নোয়াখালী সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।





























