
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নের রাজাবিরাট সাঁওতাল পল্লীর বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত চাঁদাবাজি ও চুরির মামলা প্রত্যাহার এবং হয়রানি বন্ধের দাবিতে র্যালি ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১টায় রাজাবিরাট বাজারে মাঞ্জিহী পরিষদ, রাজাবিরাটের উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বৃটিস সরেন। সমাবেশের আহ্বায়ক ছিলেন মিল্টন মার্ডি, রূপ সরেন ও শ্যামবালা হেমব্রম। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যানের ভাই শফিকুল ও উজ্জ্বলের দায়ের করা চাঁদাবাজি ও চুরির মামলাকে সাঁওতালদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, সাঁওতালদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তাই অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি হয়রানি বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বক্তারা বলেন, “সাঁওতালরা কারও জমি দখল করে না, চাঁদাবাজি বা চুরি করে না।” ভূমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে মামলা, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে রাজাবিরাটের সাঁওতাল পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। রাজাবিরাটের সাঁওতালদের ভূমি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাঁওতাল পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, এক নারীকে মারধর এবং একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় মামলা হওয়ার পাশাপাশি সাঁওতালদের ভূমি ও জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ করে। স্থানীয় সাঁওতাল নেতাদের অভিযোগের বরাতে বিভিন্ন সময়ের সংবাদ প্রতিবেদনে রাজাবিরাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভূমি দখল ও উচ্ছেদের আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে। একটি প্রতিবেদনে তাদের দাবি করা হয়, স্বাধীনতার পর থেকে রাজাবিরাট এলাকায় সাঁওতালদের প্রায় ২৫০ বিঘা জমি বিভিন্নভাবে দখলে চলে গেছে। এ ছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ৪৭ বিশিষ্ট নাগরিকের এক যৌথ বিবৃতিতে রাজাবিরাটে সাঁওতালদের ওপর হামলা ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে সাঁওতালদের মধ্যে বিভ্রান্তি, বিভাজন ও ভয় দেখিয়ে জমি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। সমাবেশে বক্তারা বলেন, মামলা-হামলার ভয় নিয়ে কোনো সম্প্রদায়ের মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব নয়। সাঁওতালদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত মিথ্যা চাঁদাবাজি ও চুরির মামলা দ্রুত প্রত্যাহার, হয়রানি বন্ধ এবং ভূমি ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। সমাবেশ থেকে উপস্থিত সবাই মামলা প্রত্যাহার, হয়রানি বন্ধ এবং সাঁওতালদের ভূমি ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন তারা। সমাবেশে আদিবাসী নেতা রিপন বেসরা জয়, তারামনি সরেন, সাহেব মুরমু, মেরিনা সরেন, জুলিয়াস, কমলেশ সরেন, রূপ সরেন, শ্যামবালা হেমব্রম, অলিবিয়া হেমব্রম, মমতা হেমব্রম ও শিউলি হেমব্রম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুল রহমান মইনুল, মানবাধিকার ও সমাজকর্মী মনির হোসেন সুইট, রূহুল আমীনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। উড়াঁও সম্প্রদায়ের নেতা মিলন তিগ্যা ও আবিনা টপ্পাও সমাবেশে অংশ নেন।





























