
। ছাতক প্রতিনিধি ছাত্ররাজনীতির হাতেখড়ি থেকে জাতীয় সংসদে একাধিকবার জনপ্রতিনিধিত্ব—দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন এখন সংসদীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। ব্যবসা ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই নেতা বর্তমানে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। শৈশব ও শিক্ষাজীবন কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। সেখান থেকে বি.কম (অনার্স) এবং হিসাব বিজ্ঞানে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।ব্যক্তিজীবনে তিনি তিন কন্যা সন্তানের জনক। তিন মেয়েই উচ্চশিক্ষিত ও নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। বড় মেয়ে ব্যাংকার, দ্বিতীয় মেয়ে জার্মানিতে ডক্টরেট করছেন এবং তৃতীয় মেয়ে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। তিন মেয়েই বিবাহিত।রাজনীতিতে অভিষেক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবন থেকেই কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের সক্রিয় রাজনৈতিক পথচলার শুরু। উচ্চশিক্ষা শেষে নিজ এলাকায় ফিরে তিনি রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৫ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।বিএনপিতে যোগদান ও সাংগঠনিক দায়িত্ব ১৯৯২ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি জেলা বিএনপির সংগঠনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।বর্তমানে তিনি সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আন্দোলন-সংগ্রাম ও মাঠের রাজনীতি বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকা কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালের বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতেও তিনি জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দেন।এ ছাড়া বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি ও দলীয় কর্মসূচির পক্ষে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেন তিনি। সংসদীয় জীবনে বারবার প্রত্যাবর্তন কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তাঁর সংসদীয় পথচলা।১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৫ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আবারও সংসদে যান।তবে একই বছরের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুহিবুর রহমান মানিক বিজয়ী হন।২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে সুনামগঞ্জ-৫ আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন।ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী মজিবুর রহমান মানিককে পরাজিত করেন।২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনি পরাজিত হন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মহিবুর রহমান মানিক বিজয়ী হন।এরপর ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আবারও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৫১ হাজার ৯১৫ ভোট পান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী পান ১ লাখ ২ হাজার ১২১ ভোট।সংসদীয় নেতৃত্বে নতুন দায়িত্ব সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এবার গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন।তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। উন্নয়ন ও জনকল্যাণে অগ্রাধিকার নির্বাচনী এলাকার মানুষের কল্যাণে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার সম্প্রসারণ, যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ও অবকাঠামোর উন্নয়ন, খাল খনন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও সংসদীয় পথচলার মধ্য দিয়ে ছাতক–দোয়ারাবাজারের রাজনীতিতে কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন একটি পরিচিত অবস্থান তৈরি করেছেন।একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এবার গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।তথ্যদাতা ফজলুল করিম বকুল প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক (স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত) ছাতক উপজেলা বিএনপি।





























