
শফিকুল স্টাফ রিপোর্টারঃ গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ২ নং গাজীপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের নয়নপুর বাজার এলাকায় অবস্থিত 'ডিবিএল সিরামিকস' কারখানার নির্গত দূষিত ধোঁয়া ও ধূলিকণায় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কারখানার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও গুঁড়ো ময়লা বাতাসে উড়ে সরাসরি ঢুকে পড়ছে মানুষের বসতবাড়িতে। এতে নষ্ট হচ্ছে ঘরের খাবার, অকালেই জং ধরে নষ্ট হচ্ছে বসতবাড়ির টিন এবং মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে ওই এলাকার শিশুরা, যাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত বাড়ছে শ্বাসকষ্টসহ নানা অ্যালার্জিজণিত রোগ।স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘনবসতিপূর্ণ এবং বাণিজ্যিক এই এলাকায় কারখানাটি গড়ে ওঠার পর থেকেই পরিবেশ দূষণ তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন কারখানা থেকে নির্গত হওয়া সাদা ও ধূসর রঙের গুঁড়ো ধূলিকণা বাতাসে ভেসে পুরো এলাকাচ্ছন্ন করে ফেলে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও এই দূষণ থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। রান্নার খাবার বা টেবিলে রাখা খাবার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ধুলোর আস্তরণে ঢেকে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, কেমিক্যালযুক্ত এই ধূলিকণার কারণে বসতবাড়ির টিনের চালা অল্প দিনেই মরিচা ধরে ফুটো হয়ে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ চরম অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।নয়নপুর বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বাতাসে ক্ষতিকর কণা ভেসে বেড়ানোর কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এলাকার স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরা দীর্ঘ মেয়াদে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ফুসফুসের সংক্রমণ এবং তীব্র শ্বাসকষ্টের কারণে অনেক শিশুর বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অসুস্থতার কারণে তারা বাড়িতেও ঠিকমতো মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে পারছে না।পরিবেশ আইন অনুযায়ী, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ভারী শিল্পকারখানা পরিচালনার ক্ষেত্রে শতভাগ ডাস্ট ফিল্টার ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ডিবিএল সিরামিকস কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নীরব ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।





























