
মোহাইমিনুল ইসলাম, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় স্ত্রীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে টাকার বিনিময়ে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উলিপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) উলিপুর পৌরসভার নিজাই খামার এলাকার ১নং ওয়ার্ড হাজীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ওই এসআইকে অবরুদ্ধ করে রাখলে দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা পর স্থানীয় মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় তিনি মুক্ত হন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে মজনু মিয়া নামের এক ব্যক্তি তার স্ত্রী বিথি বেগমকে পিটিয়ে দুই কানের পর্দা ফাটিয়ে দেন এবং গুরুতর জখম করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় গ্রামবাসী গৃহবধূকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের অভিভাবক ও গ্রামবাসী সালিশ বৈঠকে বসেন। বৈঠক চলাকালে মজনুর বাবার ফোন করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে উলিপুর থানার এসআই খাইরুল ইসলাম, একজন পুলিশ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে যান।অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই এসআই রক্তাক্ত জখমের মামলার মূল অভিযুক্তকে হেফাজতে না নিয়ে উল্টো কৌশলে একটি লাথি মেরে সালিশ বৈঠক থেকে তাড়িয়ে দেন এবং মজনু দৌড়ে পালিয়ে যায়।ভুক্তভোগীর স্বজন ও গ্রামবাসীদের দাবি, মজনুর বাবার কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা (টাকা) নিয়ে ওই এসআই উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আসামিকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। আসামিকে এভাবে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় উপস্থিত জনতা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওই এসআইকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। অবস্থা বেগতিক দেখে সঙ্গে থাকা অন্য পুলিশ সদস্য দ্রুত সেখান থেকে চলে গেলেও অবরুদ্ধ এসআই বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টানা ৫ ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন।পরবর্তীতে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এসে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য আবার সালিশ বৈঠক বসান এবং ওই বৈঠকের অংশ হিসেবে এসআই খাইরুল সালিশের শেষ পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন।জরুরি ডিউটিতে গিয়ে ফৌজদারি অপরাধের অভিযুক্তকে নিজ হেফাজতে না নিয়ে সালিশে অংশ নেওয়া এবং আসামিকে তাড়িয়ে দেওয়ার এই ঘটনায় ওই এসআইয়ের পেশাদারিত্ব ও ভূমিকা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।এ ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই খাইরুল ইসলাম জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে ছেলেটিকে বের করে আনি। আমি তাকে শাসন করার জন্য একটি লাথি মারি। এরপর কথা বলার সময় সে পাশের দিকে চলে যায়, পরে আর তাকে পাওয়া যায়নি। আমাকে কেউ অবরুদ্ধ করে রাখেনি। স্থানীয় মেম্বার লিটন মিয়া ও রফিকুল ইসলাম মীমাংসার চেষ্টা করবেন বলে আমি সেখানে ২-৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করি। তিনি অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।এ বিষয়ে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




























