
শফিকুল স্টাফ রিপোর্টারঃ গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ও গয়েশপুর এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ছিল সুতিয়া নদীর ওপর একটি সেতু। স্থানীয়দের যাতায়াত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের প্রায় ৮ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ৯৬ মিটার দীর্ঘ একটি দৃষ্টিনন্দন সেতু। তবে নির্মাণের দীর্ঘদিন পার হলেও আলোর মুখ দেখেনি এই প্রকল্প। দুই পাশে সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) না থাকায় কোটি টাকার এই সেতুটি এখন এলাকাবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদী পারাপারের জন্য বিশাল সেতুটি দাঁড়িয়ে থাকলেও তার দুই পাশে কোনো সড়ক নেই। ফলে কাওরাইদ, গয়েশপুরসহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এই সেতু ব্যবহার করতে পারছেন না। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও রোগীবাহী যানবাহন নিয়ে স্থানীয়দের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হলেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে তারা এর কোনো সুফল পাচ্ছেন না।এই জনদুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, "আমরা এই সমস্যাটির ব্যাপারে পুরোপুরি অবগত আছি। কিন্তু নানাবিধ জটিলতার কারণে এই মুহূর্তে খুব একটা সুবিধা বা দ্রুত সমাধান করতে পারছি না।" তবে জনগণের ভোগান্তি লাঘবে বিষয়টি নিয়ে তিনি তৎপর রয়েছেন বলে জানান।এদিকে, সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, "সেতুর শ্রীপুর অংশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের সব প্রস্তুতি রয়েছে। তবে বর্তমানে বর্ষা মৌসুম চলায় এবং অনবরত বৃষ্টির কারণে মাটির কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। বৃষ্টি কমলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হবে।"স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, বর্ষার অজুহাতে প্রতি বছরই কাজ পিছিয়ে দেওয়া হয়। তারা চান, বর্ষা শেষ হওয়া মাত্রই যেন আর কোনো কালক্ষেপণ না করে দ্রুত মাটি ভরাট ও সড়ক নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়। কোটি টাকার এই ‘ঝুলন্ত দ্বীপ’ সদৃশ সেতুটি কবে নাগাদ সংযোগ সড়ক পেয়ে সচল হবে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় দক্ষিণগফরগাঁও উপজেলা/ শ্রীপুর উপজেলা বাসী।





























