
নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা সদরের ৪টি গ্রামের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ বালু দিয়ে ভরাট করে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ২০০ পরিবার জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।এদিকে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক সাজেদুল হক নাঈমের বাড়িতে অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে গুনিয়াদি গ্রামের মৃত দ্বীন ইসলামের পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে। হামলার ঘটনায় উল্টো সাংবাদিক নাঈমের বিরুদ্ধে মামলা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অপচেষ্টার অভিযোগের প্রতিবাদে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এলাকাবাসী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিকলী সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামারহাটি, সাহাপাড়া, বর্মনপাড়া ও বড়হাটি—এই চার গ্রামের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথটি সম্প্রতি বালু দিয়ে ভরাট করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ওই এলাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গত প্রায় এক মাস ধরে পানিবন্দি অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের পথটি বন্ধ করে দেওয়ার কারণে স্বাভাবিক পানি চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অবহিত করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে জনদুর্ভোগ লাঘবের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।স্থানীয়দের এ দুর্ভোগ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক সাজেদুল হক নাঈম। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি।অভিযোগ অনুযায়ী, গুনিয়াদি গ্রামের মৃত দ্বীন ইসলামের পরিবারের সদস্য মামুন, সোহেল, শিমুল ও রানী আক্তারসহ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন সাংবাদিক নাঈমের বাড়িতে অতর্কিতভাবে হামলা চালান। একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন ও গ্রামবাসী এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান।সাংবাদিক নাঈমের অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অপচেষ্টা ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।এদিকে হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এলাকাবাসী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পথটি উন্মুক্ত করার পাশাপাশি হামলার অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।বিক্ষোভকারীরা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি না করারও দাবি জানান।




























