শিরোনাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোর্টের আদেশ অমান্য করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় রফাদফা হাওরের বুকে ভাসমান পার্ক,প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীর ভিড় ফরাজগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মিলন হাওলাদারের ব্যক্তিগত অর্থায়নে রাস্তা মেরামত শিশুদের নির্যাতনকারীর গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে লাকসামে মানববন্ধন স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও ফায়ার সার্ভিস পায়নি নকলাবাসী,আগুনে পুড়ছে কোটি টাকার স্বপ্ন ধর্মমন্ত্রীর দ্রুত সুস্থতা কামনায় বাখরনগরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল লালমোহনের কৃতি সন্তান মনিরুল ইসলাম লন্ডন থেকে অর্জন করলেন ব্যারিস্টার ডিগ্রি পোরশায় মাননীয় সাংসদকে ঘাটনগর পাহিড়া পুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এর সংবর্ধনা বান্দরবানের থানচিতে নিখোঁজ পর্যটকের লাশ উদ্ধার বাঙ্গরা উপজেলা বেসরকারি এতিমখানা কল্যাণ পরিষদের আহ্বায়ক কমিটি গঠন ও ধর্মমন্ত্রীর জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত
সোমবার ২৭ জুলাই ২০২৬
সোমবার ২৭ জুলাই ২০২৬

বছরে গড়ে লোকসান দেড় হাজার কোটি টাকা, রেলে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি আড়াই গুণ

আলোকিত সকাল প্রতিবেদক
প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ

Image

বছরের পর বছর রেলওয়ে লোকসানের যন্ত্রণা ভোগ করছে, যদিও দুই দশকের কিছু বেশি সময় আগে এটি লাভজনক ছিল। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী—গত ১৫ বছরে, আর্থাৎ আওয়ামী লীগের আমলে রেলে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে, এবং এই সময়ে লোকসানের পরিমাণ ২১ হাজার কোটি টাকা। এর মানে, প্রতি বছর গড়ে দেড় হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে, আর বর্তমানে আয়ের তুলনায় ব্যয় আড়াই গুণ বেশি।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেলওয়ের লোকসানের অন্যতম কারণ দুর্নীতি এবং অপরিকল্পিত ব্যয়। এছাড়া, বিনা টিকিটে ভ্রমণ এবং অধিকাংশ ট্রেনে অর্ধেকেরও কম কোচ নিয়ে চলাচলও লোকসান বাড়িয়েছে। যদি ট্রেনগুলো পূর্ণ কোচ নিয়ে চলত এবং জনপ্রিয় রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হতো, তাহলে অপারেটিং রেশিও কমানো সম্ভব হতো। পণ্য পরিবহনের পরিমাণ বাড়ালে আয়ও বাড়ানো সম্ভব হতো।



আখতার কবির চৌধুরী, সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের (চট্টগ্রাম) সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ভারতে দুর্নীতি বাংলাদেশ থেকে অনেক কম এবং অতিরিক্ত ব্যয়ও খুব কম। বাংলাদেশে প্রকল্প মানেই হয়ে দাঁড়ায় লুটপাট ও অতিরিক্ত ব্যয়। যতদিন পর্যন্ত এই সমস্যা সমাধান না হবে, ততদিন রেলওয়ের লাভের আশা কম।


অপারেটিং রেশিও একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বাস্থ্যের পরিমাপ। এটি মোট ব্যয়কে মোট আয় দিয়ে ভাগ করে হিসাব করা হয়। ভারতীয় রেলের অপারেটিং রেশিও এক দশক ধরে ৯৫-৯৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে, ফলে তারা লাভজনক অবস্থায় থাকে। বর্তমানে ভারতের ১ টাকা আয় করতে ৯৮ পয়সা খরচ হচ্ছে। অপরদিকে, বাংলাদেশে ২৪ বছর ধরে অপারেটিং রেশিও বেড়েই চলেছে, এখন ১ টাকা আয় করতে ২ টাকা ৫৮ পয়সা খরচ হচ্ছে।


রেলওয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের রেলের সর্বোচ্চ অপারেটিং রেশিও ছিল ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে, ৯৫ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ ওই সময়ে ১ টাকা আয় করতে রেলের ব্যয় হয়েছিল ৯৫ দশমিক ৯ পয়সা। এরপর থেকে এই রেশিও ক্রমাগত বেড়েছে।

রেলে লোকসানের মূল কারণ হচ্ছে অপরিকল্পিত প্রকল্প। যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। নতুন রেলপথ নির্মাণে যে ব্যয় হচ্ছে, তা বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। ক্রয় থেকে শুরু করে পরিচালনা—সব দিকেই সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। তবেই লাভের মুখ দেখা সম্ভব হবে।



রেলওয়ের গত ১৫ বছরে ব্যয়ের একটি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দেখা গেছে, এই সময়ে রেলের অবকাঠামো খাতে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। ২০০৯ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ৮৯টি প্রকল্পে ২১ হাজার ৭৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। চলমান ৩২টি প্রকল্পের জন্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে, যার মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৬৬ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে গত ১৫ বছরে রেলের উন্নয়নে মোট ৮৭ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।


২০০৮-০৯ অর্থবছরে রেলের অপারেটিং রেশিও ছিল ১৫৮ দশমিক ৯২ শতাংশ, অর্থাৎ ১ টাকা আয় করতে ১ টাকা ৫৯ পয়সা ব্যয় হয়েছে। সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, অপারেটিং রেশিও বেড়ে ২৫৮ শতাংশ হয়েছে, যার মানে ১ টাকা আয় করতে ২ টাকা ৫৮ পয়সা খরচ হচ্ছে। এই সময়ে রেলের লোকসান হয়েছে ১ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা।


বিশেষজ্ঞদের মতে, রেলকে যদি দুর্নীতিমুক্ত করা যায় এবং অপরিকল্পিত ব্যয় কমানো যায়, তাহলে লোকসান অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। বিনা টিকিটে ভ্রমণ কমাতে হবে এবং পূর্ণ কোচ নিয়ে ট্রেন চালাতে হবে। জনপ্রিয় রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো এবং পণ্য পরিবহনে মনোযোগ দেওয়া গেলে রেলকে লাভজনক করা সম্ভব।


বর্তমানে পণ্য পরিবহনে যে পরিমাণ আয় হয়, দুইটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালিয়েও তা অর্জন করা যায় না। ১৯৯৯-৯৮ অর্থবছরে দেশের মোট আমদানি-রফতানি পণ্যের ১২ শতাংশ রেল দ্বারা পরিবহন হতো, বর্তমানে তা মাত্র ৩ শতাংশে নেমে এসেছে।


রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন সরকার এসেছে এবং কাজ চলছে। আমাদের ব্যয় কমানোর দিকে নজর দিতে হবে। আয় সীমিত। একটি ট্রেন থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ১০০ থেকে ১২৫ টাকা আয় হয়। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। আমাদের এমন প্রকল্প নিতে হবে যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবেই রেল লোকসান থেকে বের হবে।’


কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাত্রীবাহী আন্তনগর ট্রেন যেতে ৫-৬ ঘণ্টা লাগে, কিন্তু একই দূরত্বে পণ্য পরিবহনে দুদিন লেগে যায়। পণ্য পরিবহনের সময় কমানো গেলে আয় বাড়ানো সম্ভব হবে। কিছু বছর আগে ম্যাংগো, ক্যাটল ও পার্সেল ট্রেন চালু করা হয়েছিল, কিন্তু এসব উদ্যোগ সফল হয়নি। পার্সেল ট্রেনে নামমাত্র পণ্য পরিবহন হচ্ছে। ভারতে রেলওয়ে বছরে পণ্য পরিবহনে ৫৫ থেকে ৬৫ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করে, যা যাত্রী পরিবহনে ভর্তুকি দেয়।


চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওমর ইমাম বলেন, রেলে লোকসানের মূল কারণ হচ্ছে অপরিকল্পিত প্রকল্প। যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। নতুন রেলপথ নির্মাণে যে ব্যয় হচ্ছে, তা বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। ক্রয় থেকে শুরু করে পরিচালনা—সব দিকেই সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। তবেই লাভের মুখ দেখা সম্ভব হবে।


আরও খবর




ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোর্টের আদেশ অমান্য করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় রফাদফা

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে ২০তম কর্পোরেশন সভা অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

মানববন্ধনের অভিযোগ ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’, সংবাদ সম্মেলনে আশিক মাহমুদ

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা

হাওরের বুকে ভাসমান পার্ক,প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীর ভিড়

ফরাজগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মিলন হাওলাদারের ব্যক্তিগত অর্থায়নে রাস্তা মেরামত

ফুলবাড়ীয়ায় শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

পঞ্চগড়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ফুলপুরে বিশেষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ২ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

নন্দীগ্রামে এমইপি গ্রুপের ইলেকট্রিশিয়ানদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, দ্রুত সুস্থতার আশাবাদ চিকিৎসকদের

অসুস্থ শিশু মুজাহিদকে নগদ অর্থ প্রদান করলেন আলোর পথে ফাউন্ডেশন পঞ্চগড়

শিশুদের নির্যাতনকারীর গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে লাকসামে মানববন্ধন

চাঁদপুরে সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পোলশার বারিন্দা গ্রামে সরকারি রাস্তা ও খাস জমি দখল করে পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ

আদালতে সাক্ষ্য ঠেকাতে প্রাণনাশের হুমকি, নিরাপত্তা চেয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় জিডি

ধর্মপাশায় সেলবরষ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনার তুঙ্গে রায়হান আহমেদ বাদশা

নরসিংদীতে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় মা-ছেলেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

চন্দনাইশ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ভিডিও ভাইরাল

চিরিরবন্দরে সাপের কামড়ে গৃহবধুর মৃত্যু

চাঁদপুরে যুব মহিলা লীগের সভাপতি ফরিদা ইলিয়াস গ্রেপ্তার

বৃত্তির ফল নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অভিযোগে আলোচনায় আহাদ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল

ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়া সহ অসংখ্য অভিযোগ কবিরের বিরুদ্ধে

মাটির মা ফাউন্ডেশনের ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক, সম্পাদক কাজী আলম ভূঁঞা

ধুনট আল-কুরআন একাডেমিক স্কুল পরিদর্শন করে সন্তুষ্ট ইফার ফিল্ড অফিসার

আর্জেন্টিনা ভক্ত আজাদ মেম্বারের শেষ ঠিকানা কারাগার

দয়ারামপুর (তালতলা, বিলপাড়া ও কাজিরদিয়ার) আদর্শ গ্রাম বিনির্মাণে ১১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যকরী (আহবায়ক) কমিটি গঠন

বাজেট সংকটে কাওরাইদ রেলওয়ে স্টেশনের সংস্কার কাজ বন্ধ: মরণফাঁদে পরিণত প্ল্যাটফর্ম, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা


এই সম্পর্কিত আরও খবর

সমাজ ও সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আলাউদ্দিন আদরকে সম্মাননা

শিক্ষায় মানোন্নয়নে একাধিক উদ্যোগের ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

বিজিবির বাধায় দৌলতপুর সীমান্তে পুশ-ইন ব্যর্থ

স্পিডবোট চালক নির্যাতনের অভিযোগে নাম জড়ানো ভিত্তিহীন, নিরপেক্ষ তদন্ত চান যুবদল নেতা এম শহীদ

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর পুনর্নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত

সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটির সভা

৫ আগস্ট খুলে দেয়া হবে জুলাই জাদুঘর: সংস্কৃতিমন্ত্রী

উত্তোলনের তুলনায় মাটির নিচে পানি জমছে কম, খরাপ্রবণ এলাকায় বড় শঙ্কা

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহী ফ্রান্স: রাষ্ট্রদূত

দেশটাকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী