
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধার বিভিন্ন খাবারের হোটেল ও রেস্তোরাঁয় দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হচ্ছে ন্যূনতম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি। অপরিষ্কার রান্নাঘর, নোংরা পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, অপরিচ্ছন্ন বাসনপত্র ব্যবহার এবং বাসি খাবার পরিবেশনের অভিযোগে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ফলে প্রতিদিনই স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে খাবার গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছেন ভোক্তারা। শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক হোটেলে রান্নার স্থান অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন। কোথাও ময়লা-আবর্জনার পাশে খাবার রাখা হচ্ছে, আবার কোথাও মাছি-মশার উপদ্রবের মধ্যেই পরিবেশন করা হচ্ছে খাবার। নিরাপদ পানি ব্যবহার না করেই বাসন ধোয়ার অভিযোগও রয়েছে একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। খাবার খেতে আসা কয়েকজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অনেক হোটেলে খাবারের মান খুবই খারাপ। বাইরে থেকে সুন্দর দেখালেও ভিতরের পরিবেশ ভয়াবহ। টাকা দিয়ে খাবার কিনে অসুস্থ হওয়ার শঙ্কা নিয়ে খেতে হয়। আরেকজন ভোক্তা জানান, “স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো তদারকি নেই বললেই চলে। কিছু হোটেলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবারও পরিবেশন করা হচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। এ বিষয়ে গাইবান্ধা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মিলন মিয়া বলেন, জেলার বেশিরভাগ খাদ্য প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং এবং অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তারপর কিছু অসাধু ব্যবসায়ী স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ খাদ্য আইন মানতে অনীহা দেখাচ্ছেন। বিভিন্ন সময় সতর্ক করা হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়ম অমান্য করেই ব্যবসা পরিচালনা করছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। সচেতন মহলের দাবি, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় খাদ্যবাহিত রোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।





























