
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা-এর ৭নং তালুককাননপুর ইউনিয়নের সুন্দইল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়-এর পুরাতন ভবনে অনুমোদনহীনভাবে একটি বেসরকারি প্রি-ক্যাডেট স্কুল পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। শুধু ভবনই নয়, বিদ্যালয়ের সরকারি আসবাবপত্র, বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল ও বৈদ্যুতিক ফ্যান ব্যবহার করেও বছরের পর বছর কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও গোপন তথ্যে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে ‘ম্যানেজ’ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পুরাতন ভবনে জামালপুর হাট প্রি ক্যাডেট স্কুল পরিচালনার সুযোগ করে দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন নীরব রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে নির্মিত সরকারি ভবন ও সম্পদ এখন ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এতে মূল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেকেই এটিকে “সরকারি সম্পদের প্রকাশ্য অপব্যবহার” বলে আখ্যা দিয়েছেন। স্থানীয় একাধিক সচেতন ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,সরকারি বিদ্যালয়ের ভবন ও মালামাল ব্যবহার করে কীভাবে একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান চালানো হয় সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। সবকিছু যেন প্রভাব খাটিয়ে করা হচ্ছে। প্রশাসনের চোখের সামনেই এসব অনিয়ম চলছে।” অভিযোগ রয়েছে, পুরাতন ভবনের কক্ষ ছাড়াও বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক ফ্যান, বেঞ্চ ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ নিয়মিতভাবে প্রি-ক্যাডেট স্কুলের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ এসব সম্পদ সরকারি বরাদ্দের আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত। এ বিষয়ে সুন্দইল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ জেসমিন বলেন, “স্থানীয়ভাবে আলোচনা করেই ভবন ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম করা হয়নি। অভিযোগগুলো অতিরঞ্জিত।তবে তার এমন বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন সরকারি বিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যবহার করতে হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন কোথায়? অন্যদিকে আব্দুর রউফ, পরিচালক, জামালপুর হাট প্রি ক্যাডেট স্কুল বলেন,বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এখানে অবৈধ কিছু নেই।”তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, “সমন্বয়” এর আড়ালেই চলছে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের অপচেষ্টা। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান বলেন,সরকারি বিদ্যালয়ের ভবন বা সম্পদ অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহারের বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের অভিযোগে দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।



























