
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ “সবাই মিলে গড়বো দেশ, দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাইবান্ধায় ১১ মে ২০২৬ (রবিবার,) সকাল ৯টা অনুষ্ঠিত হলো এক বর্ণাঢ্য ও অংশগ্রহণমূলক গণ-শুনানি। দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। গাইবান্ধা ইনডোর স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ গণ-শুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ খালেদ রহীম, সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশন। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হলে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তার মতে, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, নৈতিক সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলাই টেকসই পরিবর্তনের মূল ভিত্তি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোতাহার হোসেন, মহাপরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), প্রধান কার্যালয়, ঢাকা। তিনি বলেন, “দুদক একা দুর্নীতি দমন করতে পারে না; জনগণের সহযোগিতা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।” অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মোঃ আক্তার হোসেন, মহাপরিচালক (প্রতিরোধ), দুদক। তিনি দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাসুদুর রহমান মোল্লা। তিনি বলেন, জনগণের সেবা সহজীকরণ, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠাই দুর্নীতি হ্রাসের মূল পথ। প্রশাসন দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গণ-শুনানিতে সাধারণ নাগরিকরা বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে হয়রানি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। উপস্থিত দুদক কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে একাধিক অভিযোগ গ্রহণ করেন এবং দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। বক্তারা একমত হন যে, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। গণ-শুনানিকে তারা দুর্নীতি প্রতিরোধে একটি কার্যকর সামাজিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন। দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



























