
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়নের মুদারকান্দী গ্রামে এক প্রেমের বিয়েকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। পারিবারিক বিরোধের জেরে এক যুবকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। পরিবারটির দাবি, তাদের ছেলে ইমন হোসেনকে মারধরের পর থেকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুদারকান্দী গ্রামের ফকির বাড়ির বাসিন্দা মোস্তাক আহাম্মেদের ছেলে ইমন হোসেন প্রায় দুই বছর আগে একই এলাকার এক তরুণীকে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। শুরুতে দুই পরিবারের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও পরে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে আসে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। সংসারও চলছিল স্বাভাবিকভাবে।
তবে সম্প্রতি মেয়ের বাবা বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকদিন আগে মেয়েকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ইমনের পরিবারের ভাষ্য, মেয়েকে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে দুই পরিবারের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরিবারের দাবি, গত ৩ মে স্ত্রীকে দেখতে শ্বশুরবাড়িতে গেলে ইমন হোসেনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা। এরপর পাশের এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানা গেলেও তারপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
ছেলের সন্ধান না পেয়ে ইমনের বাবা গজারিয়া থানা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্যদিকে মেয়ের পরিবার থেকেও পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ফলে ঘটনাটি এখন দুই পরিবারের বিরোধে রূপ নিয়েছে।
এদিকে ছেলের অনিশ্চিত অবস্থায় ভেঙে পড়েছেন ইমনের বাবা-মা। একমাত্র সন্তানের খোঁজ না পেয়ে তারা মানবিক সহায়তা কামনা করেছেন। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে নিখোঁজ যুবককে উদ্ধার করা জরুরি। একই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পারিবারিক বিরোধের সমাধানেও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, ভালোবাসা থেকে গড়ে ওঠা একটি সংসার যেন ভুল বোঝাবুঝি ও দ্বন্দ্বে ধ্বংস না হয়, সে জন্য সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের হস্তক্ষেপে দ্রুত সমাধান হবে বলেও আশা করছেন অনেকে।





























