
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ উত্তরাঞ্চলের খাদ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় একটি আধুনিক সিএসডি (সেন্ট্রাল স্টোরেজ ডিপো) স্থাপনের উদ্যোগ গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম লিংকন এর সক্রিয় প্রচেষ্টা ও তদবিরে বিষয়টি এখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সম্প্রতি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মোঃ রওশানুল কাওছারের সঙ্গে এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন এমপি শামীম লিংকন। বৈঠকে গোবিন্দগঞ্জে আধুনিক সিএসডি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা, খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, উত্তরাঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত সিএসডিটি প্রায় ১২ থেকে ১৫ একর জমির ওপর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে আধুনিক খাদ্য গুদাম, উন্নত সংরক্ষণ ইউনিট, ট্রাক টার্মিনাল, লোড-আনলোড সুবিধা, প্রশাসনিক ভবনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল ও গম সংরক্ষণের সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গোবিন্দগঞ্জ উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলা। এটি রংপুর বিভাগের অন্যতম কৃষিপ্রধান ও বাণিজ্যিক এলাকা। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাতেই প্রায় ৩১ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে এবং সম্ভাব্য উৎপাদন ২ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি। প্রতিবছর এ অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ ধান, চাল ও গম দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে রংপুর বিভাগে কেবল দিনাজপুর জেলায় একটি সিএসডি থাকায় গাইবান্ধাসহ আশপাশের জেলার খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও পরিবহনে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গোবিন্দগঞ্জে আধুনিক সিএসডি নির্মিত হলে রংপুর বিভাগের ৮টি জেলা এবং পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলার ৯২টি এলএসডির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। আলোচনায় এমপি মোহাম্মদ শামীম লিংকন বলেন, “গোবিন্দগঞ্জের ভৌগোলিক অবস্থান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কৃষি উৎপাদনের সক্ষমতা বিবেচনায় এখানে একটি আধুনিক সিএসডি সময়ের দাবি। এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন, খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে এবং উত্তরাঞ্চলের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন গতি আসবে। তিনি আরও বলেন, রংপুর সুগার মিলের পতিত জমি ব্যবহার করে সহজেই সিএসডি নির্মাণ করা সম্ভব। এতে সরকারের অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন কমবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মোঃ রওশানুল কাওছার বলেন, “গোবিন্দগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত এবং এটি উত্তরাঞ্চলের কেন্দ্রীয় অবস্থানে রয়েছে। এখানে একটি সিএসডি স্থাপন হলে খাদ্য সংরক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রম অনেক বেশি কার্যকর ও গতিশীল হবে। এদিকে স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল এমপি শামীম লিংকনের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গোবিন্দগঞ্জে আধুনিক সিএসডি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।




























