
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধাঃ গ্রাম পর্যায়ে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ৪ নম্বর গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত। নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা, মামলা নিষ্পত্তি এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ মীমাংসায় সক্রিয় ভূমিকা রাখায় অক্টোবর মাসে উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রমে সেরা অবস্থানে রয়েছে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, প্রতি বৃহস্পতিবার গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ খোরশেদ আলী খান (খুশু)। বিচারিক কার্যক্রমে সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ করেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জিহাদুর রহমান মওলা, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ সাজু মিয়া এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ আকবর হোসেন।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, অক্টোবর মাসে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে মোট আটটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং একটি মামলা চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে মামলার গ্রহণ ও নিষ্পত্তির চূড়ান্ত পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে চেয়ারম্যান মোঃ খোরশেদ আলী খান (খুশু) বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ ও সমস্যার দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষকে সামান্য বিরোধের জন্য দূরবর্তী আদালতে যেতে হয় না। ফলে তাঁদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমছে। সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, গ্রাম আদালত কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে গ্রামের সাধারণ মানুষ সহজে, স্বল্প সময়ে ও কম খরচে বিচার পাওয়ার সুযোগ পান। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তিতে এ আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এলাকার সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, গ্রাম আদালতের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে তৃণমূল পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক বিরোধ নিরসন এবং সাধারণ মানুষের আইনি সেবা প্রাপ্তির সুযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি গ্রাম আদালতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও আগ্রহ বাড়বে।



























