
নিজস্ব প্রতিবেদক:দেশের বিভিন্ন গ্রাম, হাট-বাজার ও মফস্বল এলাকায় উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে চুরি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের ঘটনা। দোকানপাট, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ব্যাটারি, মোবাইল ফোন, গবাদিপশু থেকে শুরু করে ঘরের স্বর্ণালঙ্কার পর্যন্ত চুরির শিকার হচ্ছে মানুষ। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় চুরির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাত গভীর হলেই সক্রিয় হয়ে উঠছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। কোনো এলাকায় দোকানের শাটার কেটে নগদ টাকা ও মালামাল লুট করা হচ্ছে, আবার কোথাও বাড়ির সামনে রাখা মোটরসাইকেল কিংবা অটোরিকশা মুহূর্তেই উধাও হয়ে যাচ্ছে। অনেক স্থানে চার্জিং স্টেশন বা গ্যারেজ থেকে ব্যাটারি চুরির ঘটনাও বেড়েছে।সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, ফজরের নামাজের আগে কিংবা গভীর রাতে চোরেরা বসতবাড়িতে প্রবেশ করে মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো পরিবার ঘুম থেকে উঠে দেখতে পাচ্ছে আলমারি ভাঙা, ঘরের দরজা খোলা এবং গুরুত্বপূর্ণ মালামাল উধাও। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের টিনশেড ও একতলা বাড়িগুলোকে সহজ টার্গেট বানানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজার এলাকায় এখন দোকান বন্ধ করেও নিশ্চিন্ত থাকা যাচ্ছে না। রাতের আঁধারে দোকানের তালা বা শাটার কেটে মালামাল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অনেকেই ধারদেনা করে ব্যবসা চালালেও এক রাতের চুরিতে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।অন্যদিকে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বাড়ির উঠান, রাস্তার পাশে কিংবা বাজার এলাকায় পার্কিং করে রাখা মোটরসাইকেল মুহূর্তেই উধাও হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সিসিটিভি ফুটেজে সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের দেখা গেলেও অধিকাংশ ঘটনায় চোর শনাক্ত বা গ্রেপ্তার হচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।গ্রামাঞ্চলে অটোরিকশা ও ব্যাটারি চুরিও নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতে চার্জে রাখা ব্যাটারি কিংবা রাস্তার পাশে রাখা অটোরিকশা চুরি হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়ছেন চালকরা। অনেক পরিবার এসব যানবাহনের আয়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় একটি চুরির ঘটনাই তাদের জীবিকায় বড় আঘাত হানছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পুলিশি টহলের অভাব, নির্জন সড়ক, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না হওয়ায় চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অনেক এলাকায় চুরির ঘটনার পরও মামলা বা অভিযোগের তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।এ পরিস্থিতিতে অনেক গ্রামেই স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে রাত জেগে পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোথাও বাঁশি বাজিয়ে টহল দেওয়া হচ্ছে, কোথাও মসজিদের মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে এলাকাবাসীকে। তবে চুরি ঠেকাতে গিয়ে কিছু এলাকায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। চোর সন্দেহে কাউকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিভিন্ন স্থানে।সচেতন মহল বলছে, অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি হলেও বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে মারধর বা শাস্তি দেওয়া আইনত অপরাধ। এতে নিরপরাধ মানুষও ক্ষতির শিকার হতে পারেন।সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, বেকারত্ব, মাদকের বিস্তার, সামাজিক অবক্ষয় এবং দ্রুত বিচার না হওয়াসহ নানা কারণে গ্রামাঞ্চলে অপরাধ বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় চোরচক্র সহজেই সুযোগ নিচ্ছে।স্থানীয় ব্যবসায়ী, অটোরিকশা চালক ও সাধারণ বাসিন্দারা দ্রুত পুলিশি টহল বৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি স্থাপন, রাতের নিরাপত্তা জোরদার এবং সংঘবদ্ধ চোরচক্র শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, চুরি রোধে অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হলে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।





























