
সাআদ মাহমুদ। হালুয়াঘাট প্রতিনিধি:ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় বাস্তবায়িত দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। প্রকল্প দুটির কাজ শেষ হওয়ার পর অব্যয়িত ১ কোটি ৩৮ লাখ ৪৬ হাজার ১১৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশিষ কর্মকার এ তথ্য জানান।জানা যায়, উপজেলার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কৃষি উৎপাদনে সহায়তা দিতে গত ১২ মে দুটি খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রকল্পের আওতায় কৈচাপুর ইউনিয়নের করইকান্দা এলাকায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এবং সদর ইউনিয়নের কচুন্দরা এলাকায় পাঁচ কিলোমিটার—মোট সাড়ে আট কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। এ দুই প্রকল্পের জন্য মোট ২ কোটি ১৮ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল।সংবাদ সম্মেলনে পিআইও আশিষ কর্মকার জানান, করইকান্দা খাল পুনঃখননের জন্য ৯০ লাখ ১৬ হাজার ২৬৭ টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে ব্যয় হয়েছে ৩৬ লাখ ২৫ হাজার ৭৬৮ টাকা। অন্যদিকে কচুন্দরা খাল পুনঃখননে ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা প্রাক্কলন থাকলেও কাজ সম্পন্ন করতে ব্যয় হয়েছে ৮৪ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা।তিনি বলেন, দুটি প্রকল্পের সব ব্যয় পরিশোধের পরও ১ কোটি ৩৮ লাখ ৪৬ হাজার ১১৬ টাকা অবশিষ্ট রয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী এই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত পাঠানো হবে।ইউএনও ফয়সাল আহমেদ বলেন, করইকান্দা খালটি দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা হারিয়ে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। পুনঃখননের ফলে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরেছে, যা স্থানীয় কৃষি, সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরও জানান, পুনঃখনন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্ষা মৌসুমে কৃষিকাজের চাপ তুলনামূলক কম থাকায় শ্রমিক সংকট দেখা দেয়নি। এছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও খালের পাড় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে পুনঃখনন করা দুই খালের দুই পাশে মোট ৬০০টি গাছ রোপণ করা হয়েছে।




























