
আবু রায়হান টাঙ্গাইল বুরো:
ঘাটাইলে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় কানুনগো কর্তৃক দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনকে ত্রুটিপূর্ণ, স্ববিরোধী ও পক্ষপাতদুষ্ট দাবি করে এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আকবর হোসেন নামে এক ব্যক্তি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে আকবর হোসেন বলেন, এসএ রেকর্ডীয় মালিক হিসেবে তিনি এসএ ১৩৩ নম্বর খতিয়ানের ৪২৯ নম্বর দাগে মোট ৭৯ শতাংশ জমির অংশ থেকে ১৯৭৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ৯৮৪ নম্বর রেজিস্ট্রিকৃত বণ্টননামা দলিলমূলে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি পান। পরবর্তীতে বিএস জরিপে তিনি ৪৯ নম্বর খতিয়ানের ১৫৭৮ নম্বর দাগে ১০ শতাংশ জমির মালিক হন। ওই জমির ভূমি উন্নয়ন কর ২০২৫-২০২৬ অর্থবছর পর্যন্ত পরিশোধ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি বিবাদী ওসমান, আবু হানিফ ও জোয়াদ আলী জোরপূর্বক ওই জমির ৫ শতাংশ দখল করে নেন। স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ হিসেবে ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট ঘাটাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সার্ভেয়ার দিয়ে জমি পরিমাপ করে সিমেন্টের খুঁটি স্থাপন করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতেও জমির দখল বুঝে পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
আকবর হোসেন জানান, এ ঘটনায় তিনি ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পি. মামলা নং ২৮/২০২৬ দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে ঘাটাইল উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা শাহীনা খাতুন ১৫ জুন সরেজমিনে তদন্ত করেন। ওই তদন্তে তার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, বিবাদীপক্ষের নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় তদন্তের দিন ধার্য থাকলেও কানুনগো নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আকবর হোসেন অভিযোগ করেন, পরে ঘাটাইল ভূমি কার্যালয়ে গেলে কানুনগো তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে তিনি দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় বিবাদীপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে তার বিরুদ্ধে অসত্য ও পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কানুনগোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি তদন্ত প্রতিবেদনের বিভিন্ন অসংগতির কথা তুলে ধরেন। তার দাবি, নোটিশ অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ জমিতে বসে তদন্ত করার কথা থাকলেও বিবাদীপক্ষের বাড়িতে বসে তদন্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবেদনে জমির দুই পাশে পারিবারিক কবরস্থান থাকার কথা উল্লেখ করা হলেও সেখানে কোনো কবরস্থান নেই বলে তিনি দাবি করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উভয় পক্ষ জমির পরিমাণ ও ভোগদখলের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য উপস্থাপন করেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে—এমন বক্তব্যেরও প্রতিবাদ জানান আকবর। তিনি বলেন, মামলার আরজিতে জমির পরিমাণ, পালান, পারিবারিক কবরস্থান ও গাছপালা এবং বসতভিটা থেকে পাকা রাস্তায় যাতায়াতের জন্য জমি ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া বিরোধপূর্ণ জমিকে উভয় পক্ষের এজমালি সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তার দাবি, ১৫৭৮ নম্বর দাগে তার মালিকানাধীন ১০ শতাংশ জমি ৪৯ নম্বর বিএস খতিয়ানভুক্ত। অন্যদিকে বিবাদীদের দাবি করা জমি পৃথক ৩২২ ও ৩৩৫ নম্বর খতিয়ানভুক্ত।
সংবাদ সম্মেলনে আকবর হোসন সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।




























