
মোরশেদ আলম, চকরিয়া প্রতিনিধিঃ কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন ভূমি অফিসে এক পরিবারের পাঁচ সদস্যের প্রভাব বিস্তার ও সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুযোগে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের পর এই পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে বদলি, পদায়ন ও নিয়োগে প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এমএলএসএস নাজমুল এই সিন্ডিকেটের মূল সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন। তার পরিবারের আরও চার সদস্য জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন—নাজমুলের বোন খালেদা বেগম (চিরিংগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা), কোহিনুর আক্তার (চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা), কোহিনূরের স্বামী ছৈয়দ নুর (কক্সবাজার সদর ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা) এবং নাজমুলের ভায়েরা-ভাই ইকবাল হোসেন (চিরিংগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এমএলএসএস)। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের বাইরে কোনো কাজ এগোয় না। ফাইল নড়াতে ঘুষ দিতে হয়, আর প্রতিবাদ করলে বদলি বা প্রশাসনিক হয়রানির মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার জন্য প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। এদিকে, চিরিংগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা খালেদা বেগমের একটি মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) চকরিয়া ভূমিসেবা মেলায় এক সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে তিনি আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার পর চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ণ দেব জানান, খালেদা বেগমকে তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, এ ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সচেতন মহল মনে করছে, কেবল শোকজ বা বদলিতে সমস্যার সমাধান হবে না। প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং ভূমি সেবায় সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।





























