
মোঃ আল আমিন, কিশোরগঞ্জকিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ও লোহাজুরী ইউনিয়নকে উপজেলা সদরের সঙ্গেমোঃ আল আমিন, কিশোরগঞ্জ্ণ জালালপুর-লোহাজুরী সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ। স্থানীয়দের ভাষায়, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন যেন একটি ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের অধিকাংশ অংশে পিচ উঠে গিয়ে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের ভিত্তি পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা—তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা।এই সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন একটি আলিম মাদ্রাসা ও পরীক্ষা কেন্দ্র, একটি বালিকা মাদ্রাসা, সরকারি বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন। এছাড়া নরসিংদীর মনোহরদী ও বেলাব উপজেলার অনেক মানুষও এই সড়ক ব্যবহার করেন। চলমান এইচএসসি পরীক্ষার সময় পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে একাধিকবার সংস্কার করা হলেও নিম্নমানের কাজ ও পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কটি আবার চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তাদের দাবি, সাময়িক সংস্কারের পরিবর্তে টেকসই সমাধানের জন্য প্রয়োজন মানসম্মত নির্মাণকাজ।জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা গ্রামের বাসিন্দা মানিক বলেন, “প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বছর না ঘুরতেই আবার রাস্তা ভেঙে যায়। সঠিক পরিকল্পনা ও মানসম্মত কাজ না হলে এই সমস্যার সমাধান হবে না।”স্থানীয় ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান বলেন, “রাস্তার কারণে ক্রেতারা অনেক সময় বাজারে আসতে চান না। বৃষ্টি হলে গাড়ির চাকার কাদাপানি দোকানের ভেতরে ঢুকে ব্যবসার ক্ষতি করে।”এইচএসসি পরীক্ষার্থী মনির হোসেন, ফাহিম ও সবুজ বলেন, “পরীক্ষার সময় সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কাদাপানিতে জামাকাপড় নষ্ট হয়, অনেক সময় অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে বের হতে হয়।”অটোরিকশাচালক রমিজ উদ্দিন বলেন, “আগে ২০ মিনিটে যে পথ যাওয়া যেত, এখন প্রায় ৪০ মিনিট লাগে। রাস্তার কারণে প্রায়ই গাড়ি নষ্ট হয়, যাত্রীদেরও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।”লোহাজুরী ইউনিয়নের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী বলেন, “এই সড়কে চলাচল করতে সবসময় ভয় লাগে। বিশেষ করে বর্ষাকালে অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। দ্রুত স্থায়ী সংস্কার প্রয়োজন।”সরেজমিনে আরও দেখা যায়, জালালপুর ইউনিয়নের নদীর বাঁধসংলগ্ন চালকল এলাকা থেকে কটিয়াদী মডেল থানা পর্যন্ত সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি দীর্ঘসময় জমে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত ইট ও বালুবাহী ট্রাক্টর চলাচলের কারণে সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া কয়েকটি স্থানে সড়কের জায়গা দখল করে দোকানের বারান্দা ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, সড়কের বড় বড় গর্তের কারণে প্রায়ই যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে এবং ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। রোগী হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। তাদের মতে, টেকসই উন্নয়নের জন্য পিচের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় স্থানে আরসিসি ঢালাইসহ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা প্রকৌশলী মো. এহেতেশামুল হক বলেন, “আমি সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শন করেছি। মানুষের দুর্ভোগ সম্পর্কে অবগত আছি। প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।”দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে জালালপুর ও লোহাজুরী ইউনিয়নের বাসিন্দারা দ্রুত বরাদ্দ নিশ্চিত করে মানসম্মত ও টেকসই সংস্কারকাজ শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।





























