
নিজস্ব প্রতিবেদক :
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনওর) কার্যালয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়ার কর্মীরা সামনের সারির চেয়ারে বসায় দুই ভাইস চেয়ারম্যানকে দাঁড়িয়ে থাকার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ইউএনও বার বার ভাইস চেয়ারম্যানদের বসার জন্য সামনের সারিতে থাকা দুটি চেয়ার খালি করে দেয়ার অনুরোধ জানালেও তাতে কর্ণপাত করেননি উপজেলা চেয়ারম্যানের সমর্থকরা। পরে সামনের সারিতে দুটি চেয়ার এনে দিলে তাতে বসেন দুই ভাইস চেয়ারম্যান। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গণমাধ্যম ও স্থানীয় হাটবাজারে চায়ের দোকানে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, ভাইস চেয়ারম্যান মো. হযরত আলী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হালুফা আক্তার হেপি তাদের শতাধিক কর্মী সমর্থক নিয়ে প্রথম কার্য দিবসে ইউএনও অতীশ দর্শী চাকমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটিকে ‘চেয়ার কাণ্ড’ অভিহিত করে উপজেলার একাধিক জনপ্রতিনিধি তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের কর্মীদের এ আচরণ ধৃষ্টতাপূর্ণ ও অসৌজন্যমূল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউএনওর অস্থায়ী কার্যালয়ে যথেষ্ট জায়গা না থাকায় ইউএনওর টেবিলের সামনের সারিতে চারটি হাতাযুক্ত চেয়ার সারিবদ্ধভাবে রাখা ছিল। সামনের সারির সেই চেয়ারে আগে থেকেই বসা ছিলেন দুইজন ইউপি চেয়ারম্যান। অন্য দুটি চেয়ার রাখা হয় ভাইস চেয়ারম্যানদের জন্য। আর উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য ইউএনওর পাশেই আলাদা চেয়ারে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে আসা দুই কর্মী ভাইস চেয়ারম্যানদের জন্য সংরক্ষিত চেয়ার দুটিতে বসে পড়েন। ইউএনও ওই দুই কর্মীকে চেয়ার ছাড়তে অনুরোধ করলেও কর্ণপাত করেননি তারা। তখন দুই ভাইস চেয়ারম্যানদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তা নিয়েও গণমাধ্যম কর্মীরাও এর প্রতিবাদ জানান। পরে তাঁদের জন্য পেছন থেকে চেয়ার এনে সামনে বসার ব্যবস্থা করে দেন (ইউএনও)অতীশ দর্শী চাকমা ।
এ বিষয়ে ভাইস চেয়ারম্যান হযরত আলী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হালুফা আক্তার হেপি বলেন, বিষয়টি আমাদের কাছে খুব খারাপ লেগেছে।পরে ইউএনও সাহেবের আন্তরিকতায় বিষয়টি সমাধান হয়।
উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া বলেন, আমরা ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আগে তাঁকে মোবাইল ফোনে অবগত করেছিলাম।আগেই তিনটি চেয়ার খালি রাখার দরকার ছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও অতীশ দর্শী চাকমা বলেন, দুই ভাইস চেয়ারম্যানের জন্য সামনের সারিতে রাখা দুইটি চেয়ারে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের দুইজন কর্মী বসেন। তাদের চেয়ার দুটি খালি করার অনুরোধ জানালেও তারা কর্ণপাত না করায় আমি বিব্রত হয়েছি। পরে অন্য দুটি চেয়ার এনে সামনের সারিতে ভাইস চেয়ারম্যানদের বসার ব্যবস্থা করা হয়।




























