
মো কামরুল হোসেন সুমন,মনপুরা: ভোলার মনপুরায় নারী সংক্রান্ত অভিযোগের কথা বলে চৌকিদারের মাধ্যমে এক কৃষককে বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে মারধর ও মাথার চুল কেটে (ন্যাড়া করার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টায় মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কৃষক মো. আলাউদ্দিন। ভুক্তভোগী মো.আলাউদ্দিন উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন কৃষক। অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার সকালে উপজেলার ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার বিএনপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।সংবাদ সম্মেলনে আলাউদ্দিন বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ফরিদ ও কালাম নামে দুই ব্যক্তি তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।পরে উপজেলা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার হস্তক্ষেপে বিরোধটির সমাধান হয়। কিন্তু পরবর্তীতে নারী সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে চৌকিদারের মাধ্যমে তাকে বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানে ইউপি সদস্য জাকির হোসেন দুলালের নেতৃত্বে তাকে মারধর করে মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করা হয়।এরপর তাকে বাজারে বাজারে ঘোরানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।কিন্তু সরেজমিনে সততা মিলে নি তার অভিযোগের,তাকে বাজারে বাজারে ঘুড়ানো হতে কেউ দেখে নি বলে জানান অনেককে।এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলাউদ্দিন বলেন, মারধরের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেও চিকিৎসা নিতে পারেননি। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে কোরআনের হাফেজ ছেলের সামনে মুখ দেখাতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি চরম অপমানিত। এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’তবে এলাকাবাসী ও চায় তার বিচার!কেন তিনি মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে, তিনি দীর্ঘ দিন ধরে অপরাদ করছে।সেই অপরাদ ডাকতে তিনি এই সংবাদ সম্মেলন করছে।তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য জাকির হোসেন দুলাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে এলাকায় এর আগেও বহু নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে।উপস্থিত মানুষের তোপের মুখে তাকে ন্যাড়া করতে হয়েছে তবে উপস্থিত এলাকাবাসী তাকে ন্যাড়া করছে।বাজার বাজারে ঘুরানোর বিষয়টি সত্য নয় বলে জানা যায়।ঐ এলাকার মহিলারা বলেন তার অত্যাচারে এলাকার অনেক নারীরা অতিষ্ট হয়ে পরেছে।তাকে এলাকার নেতাদের মাধ্যমে অনেক বার সর্তক করা হয়েছে।স্থানীয়রা বলেছেন, অভিযুক্ত আলাউদ্দিন দীর্ঘদিন যাবত এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তিনি প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বাসায় উঁকি দেন এবং নারীদের উত্যক্ত করার চেষ্টা করেন।মনপুরা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবী রাহাত বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। একজন নাগরিককে এভাবে আটকে রেখে মারধর ও মাথা ন্যাড়া করা চরম নিন্দনীয় এবং সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন।সুস্থ তদন্তের দাবী সুশিল সমাজের।





























