
সফিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার জনগণের দীর্ঘ দিনের দাবি ও প্রত্যাশা অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুরাদনগর উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন থেকে ১০ টি ইউনিয়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়েছে নতুন বাঙ্গরা উপজেলা।
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় বুধবার (১ জুলাই) এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হলে বাঙ্গরা ও মুরাদনগর জুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠাকে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা অনুমোদনের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হাটবাজার ও গ্রামাঞ্চলে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনেকেই এটিকে বাঙ্গরা অঞ্চলের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন হিসেবে অভিহিত করেন।
জানা যায়, বাঙ্গরাকে উপজেলা করার দাবিতে গত কয়েক বছর ধরে ১০টি ইউনিয়নের জনগণ ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন, সভা ও সমাবেশ এবং গণসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি পালন করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে উপজেলা বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বিষয়টি এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অবশেষে নিকারের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে।
স্থানীয়দের মতে, এতদিন প্রশাসনিক সেবা গ্রহণের জন্য প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে মুরাদনগর উপজেলা সদরে যেতে হতো। একটি কাজ সম্পন্ন করতেই অনেক সময় পুরো দিন ব্যয় হয়ে যেত। নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার ফলে সরকারি বিভিন্ন সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে এবং সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
বাঙ্গরার বিএনপির নেতৃবৃন্দরা বলেন, বাঙ্গরা বাজার থানাবাসী বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতরের কাজের জন্য মুরাদনগর উপজেলায় যেতে হতো। এখন আমরা প্রশাসনিক কার্যক্রম নবগঠিত বাঙ্গরা বাজার উপজেলা থেকে নিতে পারবে। বাঙ্গরাবাজার থানাকে উপজেলায় রূপান্তরিত করায় মাননীয় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ দাদাকে আমাদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
বাঙ্গরার সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গরা জানান, বাঙ্গরাকে উপজেলা করা ছিল আমাদের বহু বছরের স্বপ্ন। ২০১৪ সালে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে বাঙ্গরা থানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আজ উপজেলা অনুমোদন পাওয়ায় পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তারা আরো জানান, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। তাঁর এই অবদান বাঙ্গরার মানুষ আজীবন কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ রাখবে।




























