শিরোনাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোর্টের আদেশ অমান্য করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় রফাদফা হাওরের বুকে ভাসমান পার্ক,প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীর ভিড় ফরাজগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মিলন হাওলাদারের ব্যক্তিগত অর্থায়নে রাস্তা মেরামত শিশুদের নির্যাতনকারীর গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে লাকসামে মানববন্ধন স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও ফায়ার সার্ভিস পায়নি নকলাবাসী,আগুনে পুড়ছে কোটি টাকার স্বপ্ন ধর্মমন্ত্রীর দ্রুত সুস্থতা কামনায় বাখরনগরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল লালমোহনের কৃতি সন্তান মনিরুল ইসলাম লন্ডন থেকে অর্জন করলেন ব্যারিস্টার ডিগ্রি পোরশায় মাননীয় সাংসদকে ঘাটনগর পাহিড়া পুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এর সংবর্ধনা বান্দরবানের থানচিতে নিখোঁজ পর্যটকের লাশ উদ্ধার বাঙ্গরা উপজেলা বেসরকারি এতিমখানা কল্যাণ পরিষদের আহ্বায়ক কমিটি গঠন ও ধর্মমন্ত্রীর জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত
সোমবার ২৭ জুলাই ২০২৬
সোমবার ২৭ জুলাই ২০২৬

মূল্যস্ফীতির সাথে বেড়েছে মাথাপিছু ঋণ, চাপও বেড়েছে সাধারণ মানুষের

আলোকিত সকাল প্রতিবেদক
প্রকাশিত:শুক্রবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ

Image

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার তার ১৫ বছরের শাসনামলে ১৮ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ রেখে যায়। শেখ হাসিনা সরকার দেশ এবং বিদেশে থেকে ঋণের বড় একটি অংশ নিয়েছে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে। ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার সাথে বেড়েছে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ। রাষ্ট্রীয় এই ঋণের চাপ বয়ে বেড়াচ্ছে সাধারণ মানুষ।


কাস্তের প্রতিটি টানে প্রশস্ত হয় আবজাল মিয়ার জীবিকা। তার বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে হলেও দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কামলা দিতে এসেছেন শরিয়তপুরের কাজিরহাট এলাকায়। হাড়ভাঙা খাটুনির পর পরিবারের মুখে আহার যোগাতে যেন হিমশিম অবস্থা তার। আয়ের চেয়ে ব্যয়ের খাতা ভারী হওয়ায় দীর্ঘশ্বাস তার।



আবজাল মিয়া বলেন, 'যে বিড়ি আগে খাইতাম ১৪ বা ১৫ টাকায়, এখন সেই বিড়ি ২৫ টাকায় খাইতে হয়। চাউল কিনতাম ৩০ টাকায় সেটা কেনা লাগে ৭০ টাকায়। না পারি মাছ খাইতে, না পারি সপ্তাহে একদিন গোস্ট খাইতে। খুব কষ্ট করে চলতে হয়।'


সবুজের বীজ বোনা কৃষকের এমন সরল বাক্য কতটা সহজ? যে জমিনেই আবাদ হয় রুটি-রুজির জোগান, বিগত সরকারের ১৫ বছরে সেখানেও টান পড়েছে অনেক। বাধ্য হয়ে তাই আফজাল মিয়ার মতো ঋণের ভারে বন্দি অন্য কৃষকরাও। মূল্যস্ফীতি তাদের নাজেহাল করলেও শেখ হাসিনার অযাচিত ঋণের চাপে ঘাম আর শ্রমের মাত্রা বাড়িয়েছে দ্বিগুণ।


একজন সবজি চাষি বলেন, 'তার, কাগজ, সুতা কিনতে হয়। সবজির জাংলা দেয়ার জন্য। সবকিছুর দাম দ্বিগুণ। পোলাপান নিয়ে ঠিকমতো খাইতে পারি না। দেখা যায় ওষুধ কিনতে গেলে দ্বিগুণ টাকা দিয়ে কিনতে হয়।'


তাহলে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নির্ভরতাই কি দাম বাড়ার মুখ্য কারণ? একদিকে দাম বাড়ানো অন্যদিকে ঋণের সুদ হার কিংবা পরোক্ষভাবে অর্থ আদায়। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশি-বিদেশি ঋণের প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে অর্থ বিভাগ। সেই হিসেবে ঋণের স্থিতি দেখানো হয় ১৬ লাখ ৫৯ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা।



তিন মাস পর পর দেশি-বিদেশি ঋণের হিসাব হালনাগাদ করার নিয়ম থাকলেও সে অংক প্রকাশ না করার আগেই দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় শেখ হাসিনা সরকার। তবে অর্থ বিভাগ বলছে, চলতি বছরের জুন শেষে দেশি-বিদেশি ঋণ স্থিতি দাঁড়াবে প্রায় ১৮ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। আর মাথাপিছু ঋণ দাঁড়াবে ১ লাখ ৮ হাজার ১০৮ টাকা।


কীভাবে এত ঋণে জর্জরিত হলো আওয়ামী লীগ সরকার? সংশ্লিষ্ট খাতের বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক সরকারের যথাযথ ঋণ ব্যবস্থাপনা না থাকায় দর-কষাকষি ও বাছবিচারহীনভাবে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে নেয়া হয়েছে ঋণ। যার প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে।


অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক শহীদুল জাহীদ বলেন, 'তারা দেখাতে চেয়েছিল যে আমরা খুব উন্নত দেশে পরিণত হতে যাচ্ছি। কিন্তু এখানে যে আদতে দাঁড়িয়েছে, এউ অনুন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়া বা না পাওয়ার সাথে জড়িত ছিল হচ্ছে আমাদের কষ্ট অব ফান্ড। যখনই আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেতে যাচ্ছি তখনই আমাদের কষ্ট অব ফান্ড বেড়ে যাচ্ছে। সুতরাং সরকার আসলে সেই মুহূর্তে অদূরদর্শীতার পরিচয় দিয়েছে। এবং তারা সস্তা রাজনৈতিক বেনিফিট পাওয়ার জন্য এ ধরনের এককটা সিথ তৈরি করেছিল।'


সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু থেকে ব্যক্তিগত ঋণে জর্জরিত মানুষেরাও পড়েছেন অপ্রত্যাশিত এই ঋণের কবলে। মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যক্তিগত দেনা পরিশোধের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় দেনার ভার এসে পড়েছে তাদের নিত্যদিনের বাজার সদায়ে।



নিম্নবিত্ত পরিবারের একজন ব্যক্তি বলেন, 'আমরা গরীব মানুষ, আমাদের প্রতিদিন আলু প্রয়োজন হয় দেড় থেকে দুই কেজি। কিন্তু, এক কেজিও কেনার টাকা আমাদের হয় না। আমার পোলা ঘরে অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে, এখনও ডাক্তার দেখাতে পারছি না।'


এ ভার ছুঁয়ে গেছে সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে সব শ্রেণীপেশার মানুষকে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষা জীবনসহ জীবন যাত্রার মানেও।


একজন শিক্ষার্থী বলেন, 'দেখো যাচ্ছে যে আগে ২০ টাকা দিয়ে একটা খাতা পাওয়া যেতো, এখন সেই একই খাতা ৩৫ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। আগে একটা কলম পাঁচ টাকা দিয়ে কিনতাম এখন সেটা সাত টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। যদি বলি এটা সরকারি রেট, তখন দেখা যায় সেটা সরকার নিচ্ছে কিন্তু পে করছি আমরা।'


ঋণের এই বোঝা থেকে সহজেই মুক্তি মিলছে না বলে বলছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকল্প নির্বাচনে সচেতন না হলে এ ঋণ বয়ে বেড়াতে হবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।


সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এটা যেন সুশাসন সঙ্গে সাশ্রয়ীভাবে হয়, সময়মতো শেষ করা যায় সেদিকেও আমাদের নজর দিতে হবে। এটা যদি আমরা না করি তাহলে আমাদের দেশের ঋণের দায়ভার বাড়বে, মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ বাড়বে। এবং আমরা এই ঋণ পরিশোধের দায়ভার পরবর্তী প্রজন্মের ঘাড়ে আমরা দিয়ে দেবো। এটা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।'


এভাবেই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে হাঁটছেন সারাদেশের ১৬ কোটি ৯৮ লাখ মানুষ। আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের নামে দেশ-বিদেশ থেকে বাছ-বিচারহীনভাবে ঋণ নেয়ার ফলে অস্বাভাবিক ঋণের বোঝা ঘাড়ে চেপেছে বলে বলছেন সাধারণ মানুষ। অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশজ উৎপাদন বাড়াতে পারলে ঋণের চাপ যেমন কমবে তেমনি স্বস্তি ফিরবে সাধারণ মানুষের মাঝে। 


আরও খবর




ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোর্টের আদেশ অমান্য করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় রফাদফা

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে ২০তম কর্পোরেশন সভা অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

মানববন্ধনের অভিযোগ ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’, সংবাদ সম্মেলনে আশিক মাহমুদ

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা

হাওরের বুকে ভাসমান পার্ক,প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীর ভিড়

ফরাজগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মিলন হাওলাদারের ব্যক্তিগত অর্থায়নে রাস্তা মেরামত

ফুলবাড়ীয়ায় শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

পঞ্চগড়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ফুলপুরে বিশেষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ২ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

নন্দীগ্রামে এমইপি গ্রুপের ইলেকট্রিশিয়ানদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, দ্রুত সুস্থতার আশাবাদ চিকিৎসকদের

অসুস্থ শিশু মুজাহিদকে নগদ অর্থ প্রদান করলেন আলোর পথে ফাউন্ডেশন পঞ্চগড়

শিশুদের নির্যাতনকারীর গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে লাকসামে মানববন্ধন

চাঁদপুরে সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পোলশার বারিন্দা গ্রামে সরকারি রাস্তা ও খাস জমি দখল করে পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ

আদালতে সাক্ষ্য ঠেকাতে প্রাণনাশের হুমকি, নিরাপত্তা চেয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় জিডি

ধর্মপাশায় সেলবরষ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনার তুঙ্গে রায়হান আহমেদ বাদশা

নরসিংদীতে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় মা-ছেলেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

চন্দনাইশ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ভিডিও ভাইরাল

চিরিরবন্দরে সাপের কামড়ে গৃহবধুর মৃত্যু

চাঁদপুরে যুব মহিলা লীগের সভাপতি ফরিদা ইলিয়াস গ্রেপ্তার

বৃত্তির ফল নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অভিযোগে আলোচনায় আহাদ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল

ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়া সহ অসংখ্য অভিযোগ কবিরের বিরুদ্ধে

মাটির মা ফাউন্ডেশনের ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক, সম্পাদক কাজী আলম ভূঁঞা

ধুনট আল-কুরআন একাডেমিক স্কুল পরিদর্শন করে সন্তুষ্ট ইফার ফিল্ড অফিসার

আর্জেন্টিনা ভক্ত আজাদ মেম্বারের শেষ ঠিকানা কারাগার

দয়ারামপুর (তালতলা, বিলপাড়া ও কাজিরদিয়ার) আদর্শ গ্রাম বিনির্মাণে ১১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যকরী (আহবায়ক) কমিটি গঠন

বাজেট সংকটে কাওরাইদ রেলওয়ে স্টেশনের সংস্কার কাজ বন্ধ: মরণফাঁদে পরিণত প্ল্যাটফর্ম, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা


এই সম্পর্কিত আরও খবর

সমাজ ও সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আলাউদ্দিন আদরকে সম্মাননা

শিক্ষায় মানোন্নয়নে একাধিক উদ্যোগের ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

বিজিবির বাধায় দৌলতপুর সীমান্তে পুশ-ইন ব্যর্থ

স্পিডবোট চালক নির্যাতনের অভিযোগে নাম জড়ানো ভিত্তিহীন, নিরপেক্ষ তদন্ত চান যুবদল নেতা এম শহীদ

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর পুনর্নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত

সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটির সভা

৫ আগস্ট খুলে দেয়া হবে জুলাই জাদুঘর: সংস্কৃতিমন্ত্রী

উত্তোলনের তুলনায় মাটির নিচে পানি জমছে কম, খরাপ্রবণ এলাকায় বড় শঙ্কা

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহী ফ্রান্স: রাষ্ট্রদূত

দেশটাকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী