
হুযাইফা হিজল, রায়গঞ্জ:
রায়গঞ্জে এনডিপি ও এমএসএফ-এর Empower Her প্রকল্পের বার্ষিক সংবাদ সম্মেলন।
নারী, কিশোরী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সকল ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ এবং একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বার্ষিক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে রায়গঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি)-এর আয়োজনে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জিএফএ কনসালটিং গ্রুপ কর্তৃক পরিচালিত, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) এমপাওয়ারহার’ প্রকল্পের অধিনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রায়গঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক রানা।
সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এনডিপির রায়গঞ্জ উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর মোঃ বাপ্পী সরকার, রায়গঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস. এম. নজরুল ইসলাম, রায়গঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বকুল, উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি শামীম উদ্দিন খান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মামুনুর রশিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ কুমার দাস এবং সদস্য আল-আমিন।
সংবাদ সম্মেলনে গবেষণালব্ধ তথ্য ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের আলোকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত রায়গঞ্জ উপজেলায় নারী, কিশোরী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনা, পারিবারিক নির্যাতন, বাল্যবিয়ে, যৌন ও অনলাইন হয়রানি, সামাজিক বৈষম্য এবং অন্যান্য লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়। উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, এসব ঘটনার কারণে নারী, কিশোরী, শিশু এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বক্তারা এসব ঘটনা প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য সহজলভ্য আইনি, সামাজিক ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
তারা আরও বলেন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রতিরোধ সম্ভব নয়। গবেষণালব্ধ তথ্য ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রতিবেদন নীতিনির্ধারণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে বক্তারা নারী, কিশোরী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য একটি নিরাপদ, সহিংসতামুক্ত, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গঠনে সরকারের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।





























