
জেলা প্রতিনিধি, নীলফামারী
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নীলফামারীর ডোমার ঐতিহ্যবাহী বসুনিয়াহাটে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের গরু, মহিষ ও ছাগলের সমাহারে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো হাট এলাকা।দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারা আসছেন। ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা।
জেলায় এবার ৪১ স্থানে কোরবানির পশু কেনাবেচার হাট বসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩১টি স্থায়ী ও ১০টি অস্থায়ী হাট রয়েছে। এছাড়াও ছয়টি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও পশু কেনা-বেচা হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নীলফামারীতে বাণিজ্যিক ও পারিবারিক মিলিয়ে মোট ৩৪ হাজার ৮০৩টি খামারে ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৫০টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড় ৫১ হাজার ৮৮১টি, বলদ ৪ হাজার ১৬৪টি, গাভী ২৫ হাজার ৮৬৫টি, মহিষ ৯৪টি, ছাগল ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩০৯টি এবং ভেড়া ১৫ হাজার ৫৩২টি।
এবারের ঈদে জেলায় পশুর চাহিদা রয়েছে মোট চাহিদা ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৭৬টি হলেও প্রায় ৫০ হাজার ১৭৪টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যা দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হবে। কোরবানি পশুর হাটগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কাজ করছে ২০টি মেডিকেল টিম।
তবে নীলফামারীর গরুর হাট গুলোতে অতিরিক্ত রশিদের মূল্য নিতে দেখা গেছে। কোরবানির পশুর হাটগুলোতে সরকারি নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত হাসিল (টোল) আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, কোনো কোনো হাটে রশিদ দেওয়া হলেও হাসিলের টাকা উল্লেখ করছেন না ইজারাদার নিয়োজিত রশিদ লেখকরা।
সফিকুল ইসলাম নামে পশু বিক্রেতা বলেন, গত বারের তুলনায় এবার গরুর দাম কম মনে হচ্ছে। হাটে ক্রেতারা আসছেন। কিন্তু দাম জিজ্ঞাসা করেই তারা চলে যাচ্ছেন। এ বছর ক্রেতাদের অনেকে বাজারে পশুর দরদাম যাচাই করে দেখছেন। আবার অনেকে পশু কিনতে হাটে এসেছেন। তবে অনেকে কিনছেন।
চিটাগাং থেকে মুসা নামে এক গরুর ব্যাপারী বলেন, বসুনিয়া হাটে আজকের ১৫টি গরু কিনেছি। গরুর দাম স্বাভাবিক রয়েছে। শুধু ঈদ না সারাবছর বসুনিয়াহাট থেকে গরু কিনি। যারা বাহির থেকে গরু কিনতে আসি তাদের জন্য অনেক সুযোগ সুবিধা দেয় হাট কমিটি। আজকে বড়ো গরুর দাম কিছুটা তুলনামূলক কম। তবে মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। নীলফামারীর অনেক হাটেই গরু কিনি কোন সমস্যা হয় নাই। এই এলাকার লোকগুলো ভালো।
সহিদুল নামে স্থানীয় একজন জানান, তিনি হাটে ৮টি গরু নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে তিনটি গরু বিক্রি করেছেন। কোরবানির এখনো অনেক সময় বাকি থাকায় ক্রেতারা দরকষাকষি করছেন। সামনের হাটে বিক্রির পরিমাণ বাড়বে বলে জানান তিনি।
ডোমার উপজেলার সোনারায়ের জামিরবাড়ী গ্রামের মো. জামিয়ার রহমান বলেন, বসুনিয়া হাটে আজকে ১০টি গরু এনেছি। এতোমধ্যে ৭টি বিক্রি হয়ে গেছে। তবে গরুর খাদ্যের দাম বাড়তি এতে আমাদের উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তবে হাটে গরুর চাহিদা ভালো।
স্থানীয় ও ইজারাদারের প্রতিনিধি মোঃ শিহাবুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বসুনিয়াহাটি অনেক পুরাতন একটি ঐতিহ্যবাহীহাট। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারীরা গরু কিনতে আসে। কুরবানি হাট কেন্দ্র করে অনেক গরু হাটে এসেছে। আশা করছি আগামী হাট থেকে গরু কেনাবেচা বাড়বে। দুর থেকে আসা ব্যাপারীদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করছি আমরা।
তিনি আরও বলেন, হাটে সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পুরো হাটজুড়ে দুর্ভোগ বাড়ছে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তারা দ্রুত স্থায়ী ড্রেন নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নীলফামারী পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন খাঁন বলেন, পশুরহাটে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প রাখা হবে। এছাড়া জাল নোট শনাক্ত করার মেশিনও রয়েছে। কোরবানির জন্য নির্ধারিত পশুর হাটে হাসিলের পরিমাণ সাইনবোর্ডে লেখা থাকতে হবে। যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে হাট কমিটির লোকজন সাথে সাদা পোশাকে পুলিশ তৎপর থাকবে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের বলবো অন্যের দেওয়া কোন জিনিস বাজারে খাবেন না।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাশেদুল হক বলেন, জেলায় মোট ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৫০টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। জেলায় পশুর চাহিদা রয়েছে মোট চাহিদা ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৭৬টি হলেও প্রায় ৫০ হাজার ১৭৪টি প্রাণী দেশের অন্যত্র যাবে। কোরবানির পশুরহাটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে।
বসুনিয়া হাটের ইজারাদার প্রতিনিধি শাহিন ইসলাম বলেন, আমাদের বসুনিয়া হাট সপ্তাহে দুদিন শুক্র ও সোমবার বসে। কুরবানির ঈদ উপলক্ষে অনেক গরু উঠেছে। তবে কেনাবেচা শুরু হবে সামনে হাট থেকে।
ডোমার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শায়লা সাঈদ তন্বী মুঠোফোনে জানান, ডোমার উপজেলার মধ্যে বসুনিয়া হাট একটি ঐতিহ্যবাহী হাট। বৃষ্টি হলেই কাদায় পরিনত বিষয়টি আমি অবগত। খুব দ্রুত চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সংস্কার করা হবে।





























