
হোসিয়ারি ব্যবসায়ী মো. হারুন খালাসী হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে ফতুল্লা মডেল থানা-পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন মোসা. মীম (২০) ও মো. রানা হোসেন (২৪)। তাঁদের কাছ থেকে নিহত হারুন খালাসীর ব্যবহৃত তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং শ্রমিকদের বেতনের নগদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত হারুন খালাসী ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকায় স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকায় একটি হোসিয়ারি কারখানা পরিচালনা করতেন। গত ২৬ মে শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার জন্য তিনি কারখানায় নগদ টাকা রাখেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মোবাইল ফোন থেকে সন্দেহজনক বার্তা পেয়ে কারখানায় গিয়ে অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে নিহতের স্ত্রী রেখা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তার দুজনই নিহতের কারখানায় কাজ করতেন। ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরে তাঁরা পরিকল্পিতভাবে হারুন খালাসীকে চায়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন। পরে কাপড় বাঁধার গার্ডার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর কারখানায় থাকা শ্রমিকদের বেতনের ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে তাঁরা পালিয়ে যান। পরে অভিযানে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলমের নেতৃত্বে এসআই মো. জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন একটি দল অভিযান চালিয়ে লামাপাড়া এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।




























