
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। ফলে বিদ্যালয়টিতে এবার শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। অথচ বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ ১১ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী রয়েছেন এবং তাঁরা সরকারি নিয়মে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে মনোহরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়। ২০২৫ সালে নিম্নমাধ্যমিক থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার অনুমতি পায় প্রতিষ্ঠানটি। ওই বছর বিদ্যালয়টির ছয়জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছিল। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির মাত্র তিন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তারা সবাই মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। গত সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তিন শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। তিনজনই গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজনও পাস না করায় বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান ও পাঠদান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ১১ জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষার্থীদের শতভাগ অকৃতকার্যের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন মুঠোফোনে বলেন, এর আগে বিদ্যালয়ের ফলাফল কখনো এমন বিপর্যয় হয়নি। তিন শিক্ষার্থীই গণিতে অকৃতকার্য হয়েছে। গণিত শিক্ষক ফারুক খালেক দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। বর্তমানে তিনি একটি মামলায় কারাগারে থাকায় গণিত বিষয়ে পাঠদান ব্যাহত হয়েছে। এদিকে বিদ্যালয়টির এমন ফলাফলের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে শিক্ষা বিভাগ। গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, কী কারণে বিদ্যালয়টির শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, তা জানতে প্রধান শিক্ষকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





























