
আগামী ১৬ আগস্ট জাতীয় মৎস্য দিবস ও সপ্তাহের কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সফরকে ঘিরে পুরো জেলাজুড়ে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিভিন্ন স্থানে চলছে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম। তবে এমন আয়োজনের মধ্যেও কটিয়াদী শহরের প্রধান প্রবেশমুখ কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড-কাঁচাবাজার সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা পৌরসভার ময়লার ভাগাড় এখনো অপসারণ হয়নি। এ অবস্থায় শুধু সাময়িক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নয়, পরিকল্পিত স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড নির্মাণের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা।সরেজমিনে দেখা যায়, কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড কাঁচাবাজার সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য স্তুপ করে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি বর্জ্যগুলো আগের মতো সড়কের ওপর না রেখে রাস্তার পাশেই রাখা হচ্ছে। তবে ময়লার পরিমাণ কমেনি। তীব্র দুর্গন্ধে পথচারী, যাত্রী ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে দুপুরের দিকে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই স্থানে বর্জ্য ফেলার কারণে একসময় ময়লার স্তূপ মহাসড়কের একাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকত, ফলে যান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হতো। বর্তমানে সড়কের ওপর বর্জ্য না থাকলেও রাস্তার পাশেই জমে থাকা ময়লার স্তূপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিবেশ দূষণ অব্যাহত রয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, কটিয়াদী পৌরসভায় পরিকল্পিত ও স্থায়ী কোনো ডাম্পিং গ্রাউন্ড না থাকায় শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে প্রতিদিন সংগ্রহ করা বর্জ্য দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বহু বছর ধরে আলোচনা হলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিগত সরকারের সময়েও একইভাবে এখানে বর্জ্য ফেলা হতো। সরকার পরিবর্তনের পরও সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি তাদের।স্থানীয় ব্যবসায়ী এখলাছ উদ্দীন বলেন, “কটিয়াদীর প্রবেশমুখেই ময়লার ভাগাড়। বাইরে থেকে আসা মানুষ শহরে ঢুকেই দুর্গন্ধের মুখোমুখি হন। দুর্গন্ধের কারণে আমার ‘জনি মেশিনারিজ’ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আসার আগে শুধু ময়লা সরিয়ে রাখলেই হবে না, ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থায়ী ও পরিকল্পিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড গড়ে তুলতে হবে।”যাত্রী নুরুজ্জামান বলেন, “প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করি। অনেক সময় নাক-মুখ চেপে রাস্তা পার হতে হয়। আমরা চাই, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হোক।”স্থানীয় বাসিন্দা জজ মিয়া বলেন, “ময়লার দুর্গন্ধে চলাচল করাই কষ্টকর। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড না হলে এ সমস্যার সমাধান হবে না।”স্থানীয়দের দাবি, ময়লার স্তূপে মাছি, মশা ও রোগবাহী পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি বর্জ্যের সঙ্গে মিশে দুর্গন্ধযুক্ত তরল আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।জানা গেছে, আগামী ১৬ আগস্ট জাতীয় মৎস্য দিবস ও সপ্তাহের কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা এলাকার একটি হ্যাচারিতে যাবেন। সেখানে তিনি জাতীয় মৎস্য দিবসের উদ্বোধন, মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, “ময়লা অপসারণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি পৌরসভার দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হচ্ছে।”স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে শুধু সাময়িক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কটিয়াদী পৌরসভার জন্য একটি পরিকল্পিত ও স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড স্থাপন এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে যেমন কটিয়াদীর প্রবেশমুখ পরিচ্ছন্ন হবে, তেমনি দীর্ঘদিনের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সংকটেরও স্থায়ী সমাধান হবে।





























