
রূপগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল ভূমি অফিসের কানুনগো দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। পূর্বাচল উপশহর প্রকল্প এলাকায় জমি অধিগ্রহণ, নামজারি ও রেকর্ড সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবায় অনিয়মের অভিযোগ এনে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারি (মিউটেশন) ও রেকর্ড সংশোধনের বিভিন্ন ফাইল অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না। সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। যারা অর্থ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন, তাদের ফাইল ‘অসম্পূর্ণ কাগজ’ বা ‘রেকর্ড গরমিল’ দেখিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়। পরে অনেককে দালালচক্রের মাধ্যমে কাজ করাতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ভূমি অফিসের একাধিক সূত্রের দাবি, অফিসের কার্যক্রমে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে এবং সেখানে কানুনগোর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, অফিসে তাঁর প্রভাব এতটাই বেশি যে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করা হয়।
এদিকে কানুনগো দেলোয়ার হোসেনের জীবনযাত্রা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, সরকারি চাকরির বেতনের তুলনায় তাঁর জীবনযাত্রা ও সম্পদের পরিমাণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। রূপগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নামে জমি ও সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক লেনদেন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো নথি প্রকাশ করা হয়নি।
আরও অভিযোগ রয়েছে, তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যয়বহুল জীবনযাপন এবং সন্তানদের অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার খরচের উৎস নিয়েও জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্বাচল এলাকায় বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় তৈরি করেছেন দেলোয়ার হোসেন। নামজারি শুনানিসহ বিভিন্ন কাজে সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কানুনগো দেলোয়ার হোসেন। বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।



























