
গাজী হাবিব, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আয়েনউদ্দীন মহিলা আলিম মাদ্রাসার আলিম ও ইবতেদায়ি বিভাগে শিক্ষার্থী সংকটের মধ্যে সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দুই বিভাগে শিক্ষার্থী সংখ্যা অত্যন্ত কম হলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন খাতে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষায় মাদ্রাসাটির আলিম প্রথম বর্ষে মাত্র ৬ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়। গত ৬ জুলাই জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন প্রতিষ্ঠানটি আকস্মিক পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় আলিম প্রথম বর্ষে ৭ জন ছাত্রী এবং ইবতেদায়ি বিভাগের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত দেখতে পান। এর মধ্যে ইবতেদায়ি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন না। পরিদর্শন শেষে শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলিম বিভাগে শিক্ষার্থী উপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বিষয়টি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন আকারে পাঠানো হবে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আলিম বিভাগে বর্তমানে ৮ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ জন সহকারী অধ্যাপক ও ৩ জন প্রভাষক। এসব শিক্ষকের বেতন-ভাতা বাবদ সরকার প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয় করছেন।
জানামতে, আলিম প্রথম বর্ষে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬ জন ছাত্রীকে ভিত্তি হিসেবে ধরলে প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে মাসিক সরকারি ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৫৮ হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষায় ৬ জন অংশ নিলেও নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকে মাত্র ১ থেকে ২ জন শিক্ষার্থী।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, আলিম প্রথম বর্ষে ২০ জনের বেশি ছাত্রীর নামে সরকারি উপবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। অথচ সরকারি বিধি অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর অর্জন এবং ৮০ শতাংশ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে না পারলে উপবৃত্তির জন্য যোগ্য বিবেচিত হওয়ার কথা নয়। এ অবস্থায় শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও উপবৃত্তি বাবদ সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন বলেন, আলিম শ্রেণীতে ২৮ জন ছাত্রী আছে-তারা পরীক্ষা দিচ্ছে। আপনি আসেন। দেখে যান। ক্লাসে তো আর সবাই উপস্থিত হয়না। অনেকের বিবাহ হয়ে গেছে। সবাই সব দিন আসেনা। কিন্ত পরীক্ষা সবাই দেয়। মাত্র ৬ ছাত্রীর উপস্থিতি নিয়ে উপবৃত্তিতে কোন সমস্যা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান। নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য কি ধরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে - এমন প্রশ্নের জবাবও তিনি এড়িয়ে যান।
জানতে চাইলে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, আকস্মিক পরিদর্শণে গিয়ে আলিম শ্রেণীতে ৭ জন ছাত্রী পেয়েঁছিলাম। আর ইবতেদায়ী প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল না। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন এখনো পাঠাইনি তবে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন পাঠাবো।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি সম্প্রতি শুনেছি। আলিম প্রথম বর্ষে মাত্র ৭ জন ছাত্রী থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সেখানে ৮ জন প্রভাষক কর্মরত রয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। আমিও আকস্মিক যাবো প্রতিষ্ঠানটিতে। প্রয়োজনে আবুল হোসেন স্যারের সাথে কথা বলে শিক্ষার্থী সংকট, সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী সংকটের প্রকৃত কারণ, শিক্ষক পদের যৌক্তিকতা, উপবৃত্তি প্রদান এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তাদের মতে, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।





























