
জাহাঙ্গীর সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি :সাতক্ষীরা সদরের রসুলপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট কমিটি (এসডিসি) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অনিয়ম, প্রতারণা ও সাধারণ মানুষকে শোষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঋণ দেওয়ার নামে উচ্চ সুদের ফাঁদ তৈরি করে নিম্নআয়ের মানুষকে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে প্রতিষ্ঠানটি। ভুক্তভোগীদের দাবি, সমগ্র বাংলাদেশে ২৩টি জেলার মধ্যে প্রায় ১৪৫টি শাখার কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সাতক্ষীরা শাখার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ জমা পড়ছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পরে তাদের কাছ থেকে অস্বাভাবিক হারে সুদ আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ২৪ শতাংশ পর্যন্ত চড়া সুদে ঋণ বিতরণ করছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণের নীতিমালাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অভিযোগে আরও জানা যায়, ঋণ নিতে আগ্রহীদের শুধু ঋণেই সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না; বরং নানা কৌশলে তাদের বাধ্য করা হচ্ছে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঋণ অনুমোদনের শর্ত হিসেবে টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি, রাইস কুকার, প্রেসার কুকার, ব্লেন্ডারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও গৃহস্থালী পণ্য কিনতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। এসব পণ্যের অধিকাংশই নিম্নমানের ও অচেনা ব্র্যান্ডের হলেও বাজারমূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এটি মূলত এক ধরনের “ঋণের ফাঁদ” তৈরি করে সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করার অপচেষ্টা। অনেক পরিবার কিস্তির চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ আবার কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে নতুন করে ধারদেনায় জড়িয়ে পড়ছেন। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, “প্রথমে সহজ শর্তে ঋণের কথা বলে ডেকে নেয়। পরে নানা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে বাধ্য করে পণ্য কিনতে। না কিনলে ঋণ দেওয়া হয় না। অনেকেই না বুঝে এই ফাঁদে পা দিয়ে এখন পথে বসার উপক্রম।” এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে দিন দিন। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সচেতন মহল বলছে, ক্ষুদ্রঋণের আড়ালে যদি এভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও জোরপূর্বক পণ্য বিক্রির মতো কর্মকাণ্ড চলতে থাকে, তাহলে তা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। প্রতিষ্ঠানের সাতক্ষীরা ব্রাঞ্চের ম্যানেজার শুভেন্দ্র কুমার সরকার চড়া সুদে ঋণ বিতরণের কথা স্বীকার করেন। পণ্য ক্রয়ে বাধ্য করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ব্যবসার টেকনিক। অপর একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিলে তড়িঘড়ি করে আলাপ কলটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট কমিটি (এসডিসি) আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আমিন কাজীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা কোন গ্রাহককে পণ্য ক্রয়ে বাধ্য করিনা। গ্রাহক এর সুবিধা অনুযায়ী আমরা সেবা প্রদান করে থাকি। আপনি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন। এসডিসির নির্বাহী পরিচালক মোঃ আশরাফুল ইসলামের ব্যবহারিত মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার কল দিলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করাই বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।





























