
শেরপুর প্রতিনিধি :
শেরপুরের একমাত্র বেসরকারি কোল্ড স্টোরেজে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকেজের কারণে প্রায় ৫৭ হাজার বস্তা বীজ ও খাবার আলু সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কোটি টাকার চরম ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ও বহিরাগত কয়েকশ সাধারণ কৃষক ও ব্যবসায়ী। একই সাথে বীজ আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আগামী মৌসুমে জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দাবিতে গত ১৯ জুলাই (রবিবার) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কোল্ড স্টোরেজের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুব্ধ কৃষকরা।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, শেরপুরে দুটি সরকারি কোল্ড স্টোরেজ থাকলেও সেগুলো শুধুমাত্র সরকারি প্রজেক্টের বীজ আলুর জন্য সংরক্ষিত থাকে। ফলে সাধারণ কৃষক ও ব্যবসায়ীদের বাধ্য হয়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার এই একমাত্র বেসরকারি কোল্ড স্টোরেজটির ওপর নির্ভর করতে হতো। শেরপুর ছাড়াও আশেপাশের বিভিন্ন জেলার কৃষকরাও এখানে আলু সংরক্ষণ করেছিলেন।
কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান:
"গত ১৪ জুলাই রাতে হঠাৎ যন্ত্রাংশে ত্রুটি দেখা দিলে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকেজ হয় এবং মুহূর্তেই তা আলুর চেম্বারগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে এবং আগামী বৃহস্পতিবার তাদের সাথে বৈঠক করে ক্ষতিপূরণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খানম নীলু জানান, গত মৌসুমে জেলায় ৫ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ১ লাখ ৯০০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছিল। এই বিপুল পরিমাণ আলুর একটা বড় অংশ এখানে সংরক্ষিত ছিল। বীজ আলু নষ্ট হওয়ায় আগামী চাষাবাদে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অন্যদিকে, শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিক বলেন, "এই বিষাক্ত ও নষ্ট আলু যেন কোনোভাবেই বাজারে গিয়ে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করতে না পারে, সেজন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে আলুর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছে। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"





























