
মোঃ সজিব খান (শিবচর)
মাদারীপুরের শিবচরে দিন দিন বাড়ছে মাদক ও জুয়ার আগ্রাসন। এতে করে জনজীবনে বাড়ছে অস্থিরতা। উপজেলার বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ন এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই জুয়ার আসর যেখানে প্রতিদিন হয় প্রায় কোটি টাকার লেনদেন। আর এই জুয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চুরি, ছিনতাই ও মাদকের কেনাবেচা। এতে করে সাধারন মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ। বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা গেছে সকাল হলেই শিবচরের বিভিন্ন নির্জন এলাকা বিশেষ করে মাঠ, ইটভাটা, কলেজের পেছনের ফাঁকা জায়গা ও সীমান্তবর্তী চরাঞ্চল পরিণত হয় জুয়ার আখড়ায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোটরসাইকেলের বহরে দূর-দূরান্ত থেকে জুয়াড়িরা এসে জড়ো হন এসব স্পটে। চলে মধ্যরাত, কখনও কখনও ভোর পর্যন্ত।
জানা গেছে উপজেলার সবচেয়ে বড় জুয়া ও মাদকের আসর বসছে উমেদপুর ইউনিয়নের নুরুল আমিন কলেজের পেছনে বাবুর ভিটা এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় এই আসর পরিচালনায় জড়িত আছে শওকত ঢালী, কালু ঢালী ও হালান ঢালী। শুধু জুয়াই নয়, সেখানে মরন নেশা ইয়াবা সহ বিভিন্ন প্রকার মাদক সেবন ও কেনা বেচা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জুয়াড়িদের পরিবহনের জন্য গড়ে উঠেছে আলাদা মোটরসাইকেল সিন্ডিকেট। খবির ও বারেক নামের দুই চালকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকা থেকে জুয়াড়িদের বহনের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০টি মোটরসাইকেলে করে জুয়াড়িরা সেখানে পৌঁছান। শিবচর ছাড়াও জাজিরা, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, ভাঙ্গা, কালকিনি, নাওডোবা, খাসেরহাট ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও জুয়াড়িরা অংশ নিচ্ছেন এসব জুয়ার আসরে।
স্থানীয়দের দাবি, অন্তত পাঁচটি স্থানে নিয়মিত বসছে জুয়ার আসর। এর মধ্যে রয়েছে চান্দেরচর কলেজের পেছনে বাবুর ভিটা, চান্দেরচর ইটের ভাটার পাশে লিওয়ন ঢালীর গরুর খামারের পাশে, কুতুবপুরের সিমানায় পিলারের নিচে সামু মাদবরের বাড়ির পাশে, মাদবরচর ইউনিয়নের নাসিরের মোড় এলাকা, ভদ্রাসন ইউনিয়নের ক্রোকচর জব্বার মেম্বারের বাড়ির পাশে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাত হলেই এলাকায় আতঙ্ক শুরু হয়। বাইরের লোকজন এসে ভিড় জমায়। কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু দেখার যেন কেউ নেই।”
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ জুয়ার আসর বন্ধ করতে হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় শিবচরের বিস্তীর্ণ জনপদ ভয়াবহ সামাজিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মো: সালাহ্ উদ্দিন কাদের (শিবচর সার্কেল) বলেন, “জুয়াড়ি ও মাদকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। জুয়াড়ি ও মাদক কারবারি এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।





























