
আরাফাত আলী,স্টাফ রিপোর্টার:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মোঃ রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা, সাংবাদিক নির্যাতন, সংখ্যালঘু পরিবারকে উচ্ছেদ এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ এনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শামীম কবীর সুমনের স্বাক্ষরিত ওই অভিযোগপত্রে রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রোকনুজ্জামান কালিগঞ্জ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজি, মাছের ঘের, মার্কেট ও বাড়িঘর দখলসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং এসব বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় সাংবাদিকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
আবেদনে আরও দাবি করা হয়, এসব কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় কৃষক দল তাঁর আহ্বায়ক পদ স্থগিত করেছিল। তবে পরবর্তীতে সাতক্ষীরা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন এবং জেলা বিএনপির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব হোসেন মুকুলের সুপারিশে তাঁর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে পুনরায় আহ্বায়কের দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পদ ফিরে পাওয়ার পর রোকনুজ্জামান আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তাঁর কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং এর নেতিবাচক প্রভাব ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৩ আসনে বিএনপির ফলাফলেও পড়েছে বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে সর্বশেষ ঘটনায় বলা হয়, গত ১৬ জুন ২০২৬ বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সনাতন ধর্মাবলম্বী জগদাস বন্ধুর বাড়িতে দলবল নিয়ে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর, বাড়িঘর দখল এবং দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ১৮ জুন জেলা বিএনপি ও জেলা কৃষক দলের পক্ষ থেকে ৭২ ঘণ্টার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলেও পরবর্তীতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন আবেদনকারী। এতে জেলা নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
লিখিত আবেদনে তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণিত হলে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার, ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য রোকনুজ্জামান রোকনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ফোন দিলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।




























