
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন খন্দকার আল আশরাফ মামুন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নতুন কমিটির ঘোষণা দিলে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়।পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারোসিন্দুর ইউনিয়নের শুক্রাবাদ গ্রামের সন্তান খন্দকার আল আশরাফ মামুন দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। তিনি প্রয়াত খন্দকার শামসুল আলমের পুত্র। খন্দকার শামসুল আলম ছিলেন এগারোসিন্দুর ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক এবং কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য। রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা মামুন ছাত্রজীবন থেকেই দলীয় আদর্শ ও সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন।ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ছাত্র রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার স্বীকৃতি হিসেবেই এবার তাকে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।নতুন দায়িত্ব পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় খন্দকার আল আশরাফ মামুন বলেন, তিনি ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে গিয়ে বিভিন্ন সময় মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হলেও আদর্শিক অবস্থান থেকে কখনও সরে যাননি। তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদানের জন্য দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান -এঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও শিক্ষামূলক উদ্যোগের কারণেও আলোচনায় রয়েছেন মামুন। তার প্রয়াত পিতা খন্দকার শামসুল আলমের স্মৃতিকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত খন্দকার শামসুল আলম ফাউন্ডেশন গত বছরের ১৬ আগস্ট পাকুন্দিয়া উপজেলায় বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে এক ব্যতিক্রমধর্মী মেধাবৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করে। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দেয়।পরবর্তীতে ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ফলাফল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হন। বৃহৎ পরিসরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক সচেতনতার সঙ্গে শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সমন্বয়ে আয়োজিত এই উদ্যোগটি জাতীয় পর্যায়েও প্রশংসিত হয়।স্থানীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রত্যাশা, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নতুন দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে খন্দকার আল আশরাফ মামুন কিশোরগঞ্জসহ দেশের তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের আরও সুসংগঠিত করতে এবং যুবসমাজের নেতৃত্ব বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। তার এই পদোন্নতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পাকুন্দিয়া উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্যও একটি গর্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





























