
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে থানা পুলিশ। মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের পাশাপাশি অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। বিভিন্ন সময় মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় গ্রেপ্তার, জুয়া প্রতিরোধে অভিযান এবং অপরাধের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ির আঙিনায় গাঁজা চাষের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটে। ওই ঘটনায় ওসি এ কে এম হাবিবুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ ছাড়া জুয়া প্রতিরোধেও নিয়মিত অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি। তাঁর ভাষ্য, অনেক জুয়ার আসর খোলা মাঠ, নদীর চর কিংবা নির্জন এলাকায় বসায় পুলিশ পৌঁছানোর আগেই জড়িতরা পালিয়ে যায়। তবে তথ্য পাওয়া গেলে অভিযান চালানো হচ্ছে।
থানায় সেবা নিতে আসা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে পুলিশ বিষয়টি শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মাদক, পারিবারিক বিরোধ, বাল্যবিবাহ কিংবা অপরাধসংক্রান্ত বিষয়ে দ্রুত পুলিশি সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
একজন সেবাপ্রত্যাশী বলেন, “থানায় সাধারণ মানুষ যেন সহজে কথা বলতে পারে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, তাহলে মানুষের আস্থা আরও বাড়ে।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য, “মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান নিয়মিত হলে এলাকার পরিবেশ ভালো থাকবে। তরুণ প্রজন্মকে এসব অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকেও দায়িত্ব নিতে হবে।”
স্থানীয়দের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “পুলিশ যদি নিয়মিত মাঠে থাকে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়, তাহলে সাধারণ মানুষ নিরাপদ বোধ করবে। তবে কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন—এ বিষয়টিও নিশ্চিত করা জরুরি।”
সাদুল্লাপুর থানার ওসি এ কে এম হাবিবুল ইসলাম বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। সাদুল্লাপুরে মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, বাল্যবিবাহসহ যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে এ কাজে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। কোনো অপরাধ বা অপরাধীর তথ্য থাকলে পুলিশকে জানালে পরিচয় গোপন রেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশের এ তৎপরতার পাশাপাশি অপরাধের প্রকৃত চিত্র, গ্রেপ্তার ও মামলার সংখ্যা এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমও নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। কারণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়নের জন্য অভিযান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও জনগণের আস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।





























