শিরোনাম
গঙ্গাচড়ায় পাট চাষীদের প্রশিক্ষণ প্রদান জেলেদের সরকারি চাল না দিয়ে মারধরের হুমকির অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে নওগাঁর পোরশায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৫০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আটক ১ পত্নীতলায় বিড়ালের টিকাদান কর্মসূচি পত্নীতলায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত ধুনট আল-কুরআন একাডেমিক স্কুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ প্রশংসাপত্র ও স্মারক পেলেন উজ্জল মিয়া পটিয়ায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বিশাল মোটরসাইকেল র‍্যালি,অংশ নিলেন হাজারো ফুটবলপ্রেমী বাঙ্গরায় একাধিক মাদক মামলার আসামী ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার বিএসএফের পুশ-ইনে সহায়তার অভিযোগে ৭ বাংলাদেশি আটক
বুধবার ১৭ জুন ২০২৬
বুধবার ১৭ জুন ২০২৬

বাসভাড়া বাড়লেও কমে না যাত্রী ভোগান্তি

আলোকিত সকাল প্রতিবেদক
প্রকাশিত:শনিবার ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | অনলাইন সংস্করণ

Image

সকাল ৯টা ৪১ মিনিট। পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার থেকে ‘ভিক্টর ক্লাসিক’ বাসে ওঠেন অফিসগামী সাইফুল ইসলাম। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি ভেবেছিলেন, যাত্রাটা হয়তো কিছুটা স্বস্তির হবে। কিন্তু কিছু দূর যেতেই তার সেই প্রত্যাশা ভেঙে পড়ে। ভাড়া বাড়ার ঘোষণা এলেও সেবার মান যে আগের জায়গাতেই রয়ে গেছে, তা পুরো যাত্রাপথেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


৯টা ৪৮ মিনিটে বাসটি নর্থ সাউথ রোডের সিদ্দিক বাজার অতিক্রম করে। কিছুক্ষণ পর ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড ও গুলিস্তান পেরিয়ে যায় মাত্র ৫ মিনিটে। চলতি পথে যাত্রী তুলতে তুলতে বাসটি এগিয়ে চলে। ১০টা ৫ মিনিটে মগবাজার উড়ালসড়কে ওঠে।


প্রতিবেদকের গন্তব্য ছিল রায়সাহেব বাজার থেকে বাড্ডা লিংক রোড পর্যন্ত। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে বাসে উঠে বাড্ডা লিংক রোডে বড় যানজট ছাড়াই পৌঁছান ১০টা ২২ মিনিটে। মোট ৪১ মিনিটের এই যাত্রায় উঠে আসে নগরবাসীর প্রতিদিনের ভোগান্তির চিত্র।

বাসের ভেতরের চিত্র: অস্বস্তি আর অবহেলা


বাসে উঠেই চোখে পড়ে নানামুখী সমস্যা। ফ্যান অচল, সিটের কাভার ময়লা, ভেতরের পরিবেশ অপরিষ্কার। জানালায় কোনো পর্দা নেই, ফলে রোদের কারণে যাত্রীদের বসতে সমস্যা হয়। অনেক সময় সিট খালি থাকলেও রোদে বসতে না চাওয়ায় তা ফাঁকাই পড়ে থাকে।


অতিরিক্ত যাত্রী তোলা যেন নিয়মিত ঘটনা। বাসে ধারণক্ষমতার বাইরে যাত্রী নেওয়ায় গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অনেককে। নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত আসন থাকলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকারিতা নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অন্য যাত্রীরা সেই আসন দখল করে রাখেন।



রামপুরাগামী সেই সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন এই রুটে চলাচল করি। প্রায়ই ভাড়া বাড়ার ঘোষণা আসে, কিন্তু বাসের ভেতরের অবস্থা আগের মতোই রয়ে যায়। ফ্যান চলে না, গরমে বসে থাকা কষ্টকর হয়ে যায়। সিটগুলো নোংরা থাকে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো বালাই নেই। এই অবস্থায় বাড়তি ভাড়া নেওয়াটা যাত্রীদের সঙ্গে অন্যায় মনে হয়।’



শারমিন আক্তার বলেন, নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন থাকলেও বাস্তবে সেটা মানা হয় না। অনেক সময় দাঁড়িয়ে যেতে হয় পুরো পথ। কেউ জায়গা ছেড়ে দিতে চায় না। আবার জানালায় পর্দা না থাকায় রোদে বসা যায় না, এতে ভোগান্তি আরও বাড়ে। এসব বিষয়ে কোনো তদারকি নেই।



ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাসেল বলেন, বাসে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা এখন নিয়মে দাঁড়িয়েছে। চালকের সহকারীরা মাঝপথে আরও যাত্রী তোলে, এতে গাদাগাদি করে চলাচল করতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে। কিন্তু এসব বিষয়ে কারও কোনো নজর নেই।


প্রবীণ যাত্রী আব্দুল করিম বলেন, বয়স্ক মানুষের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই। বাসে ওঠা-নামাও কষ্টকর হয়ে যায়। সংরক্ষিত আসন থাকলেও কেউ তা ছাড়তে চায় না। আমরা কষ্ট করে যাতায়াত করি, কিন্তু আমাদের কথা কেউ ভাবে না।

ভাড়া নিয়ে বিভ্রান্তি: তালিকা নেই


নতুন ভাড়া কার্যকরের ঘোষণা থাকলেও বাসের কোথাও কোনো ভাড়ার তালিকা টানানো নেই—না নতুন, না পুরনো। বাসে দেখা যায়, পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত যাত্রীরা এখনো নির্দিষ্ট ১০ টাকাই ভাড়া দিচ্ছেন। অন্য স্থানেও আগের ভাড়াই আদায় করছিলেন বাসচালকের সহকারী।


এ বিষয়ে ভিক্টর ক্লাসিক বাসটির সহকারী মো. রাজু বলেন, নতুন ভাড়া কার্যকর হয়েছে ঠিকই, কিন্তু যাত্রীরা অনেক সময় তা দিতে চান না। বেশি ভাড়া চাইলে তর্ক হয়। তাই অনেক ক্ষেত্রে আগের ভাড়াতেই নিতে হয়। আবার আমাদের পক্ষ থেকেও পরিষ্কার নির্দেশনা নেই—কোথায় কত ভাড়া নেওয়া হবে।


বাসের পরিবেশ এমন কেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাসে মাঝেমধ্যে ছোটখাটো যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়েই থাকে। কিছু ঠিক করা হয়, আবার কিছু খরচ বেশি হওয়ার কারণে পড়ে থাকে। সিটের কাভার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, তাই নিয়মিত পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না। জানালার পর্দাও লাগানো হয় না—নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মালিকপক্ষ এ বিষয়ে তেমন আগ্রহ দেখায় না।

যাত্রী অধিকার: সমস্যার মূল কোথায়


বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, যাত্রীদের নানাবিধ সমস্যা সম্পর্কে সবাই জানে, কিন্তু সেগুলোর সমাধান হয় না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে বিদ্যমান সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় যাত্রীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নেই। যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো অনেক সময় সরকারের টেবিল পর্যন্ত পৌঁছায় না।


তিনি আরও বলেন, যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের কথা থাকলেও বাস্তবে আঞ্চলিক পরিবহন কমিটিগুলোতে মালিকপক্ষের প্রভাব বেশি। ফলে যাত্রীদের সমস্যা নিয়ে সেভাবে আলোচনা হয় না। মালিকরা তাদের সুবিধার বিষয়গুলো তুলে ধরতে পারে, কিন্তু যাত্রীদের দুর্ভোগ থেকে যায়।



তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আইনগত পরিবর্তন জরুরি। পরিবহন সংশ্লিষ্ট সবক্ষেত্রে যাত্রীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে তাদের সমস্যাগুলো যথাযথভাবে উঠে আসবে এবং সমাধানের পথ তৈরি হবে। অন্যথায় শুধু ভাড়া বাড়বে, কিন্তু সেবার মান আর বাড়বে না।

ভাড়া বৃদ্ধি: সরকারের সিদ্ধান্ত ও ব্যাখ্যা


জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাসভাড়া সমন্বয়ের ঘোষণা দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।


নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৫৩ পয়সা (৪.৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি)। দূরপাল্লার বাসে ভাড়া ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা (৫.১৯ শতাংশ বৃদ্ধি)। ডিটিসিএ এলাকায় ভাড়া ২ টাকা ৩২ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা (৪.৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি)।


তবে সর্বনিম্ন ভাড়া ৮ ও ১০ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।


মন্ত্রী জানান, এই ভাড়া শুধু ডিজেলচালিত বাসের জন্য প্রযোজ্য। কেউ এর ব্যত্যয় ঘটালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। তিনি আরও বলেন, তেলের দাম বাড়া-কমার সঙ্গে সমন্বয় করে ভাড়াও সমন্বয় করা হবে—এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।


গত ১৮ এপ্রিল সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ডিজেল প্রতি লিটার ১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা ও কেরোসিন ১৮ টাকা বৃদ্ধি পায়, যা ১৯ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়। এর পরপরই পরিবহন খাতে ভাড়া বাড়ানোর দাবি ওঠে এবং বৈঠকের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা হয়।


আরও খবর




গঙ্গাচড়ায় পাট চাষীদের প্রশিক্ষণ প্রদান

জেলেদের সরকারি চাল না দিয়ে মারধরের হুমকির অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

কাজিপুরে ইছামতী নদীতে অজ্ঞাত মরদেহ ঘিরে চাঞ্চল্য

নওগাঁর পোরশায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৫০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আটক ১

পত্নীতলায় বিড়ালের টিকাদান কর্মসূচি

পত্নীতলায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত

‘মুখ দেখে বিচার নয়’—ফেনীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে পুলিশ সুপার

গাইবান্ধা টিভি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

২৪ নং ওয়ার্ডে লাইসেন্সবিহীন বেকারি ও আইসক্রিম কারখানা: হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

মেঠোপথে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের শত শত পতাকা, রাণীনগরের আমগ্রামে ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজ

ভোলার কাচিয়া ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছেন দিনার মাহমুদ

কক্সবাজারে নিখোঁজের ২ দিন পর ডোবা থেকে শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার,আটক ৩

বাঙ্গরায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫২ পিস ই’য়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

মাদকমুক্ত আদর্শ ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়: বল্লীতে দিদারুল আলমের ব্যতিক্রমী সামাজিক উদ্যোগ

ধুনট আল-কুরআন একাডেমিক স্কুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ

ধুনটে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের পাশে বিএনপি নেতা আসিফ সিরাজ রব্বানী

ফুলপুরে ট্রান্সফরমার চোর গ্রেফতার

সরকারি ভাতার টাকা মসজিদ ফান্ডে জমা না দেওয়ায় ইমামকে চাকরিচ্যুতের অভিযোগ

কাশিমপুরে ফুটপাত দখল করে চাঁদাবাজি, থামছে না নেতার ভাইয়ের দৌরাত্ম্য

মাদকের বিরুদ্ধে ফুটবল টুর্নামেন্ট মানিকগঞ্জ, দৌলতপুরের চরকাটারীতে

সাভার উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কফিল উদ্দিন আর নেই

শরণখোলায় প্রাইভেট একাডেমির শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাস্তায় বসে ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ

ধর্ষণ মামলায় চাঁদপুর সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স গ্রেপ্তার

দক্ষিণ আইচায় ইয়াবাসহ জনতার হাতে আটক কথিত মাদক সম্রাট বাবুল

ডুয়েট উপাচার্যের সঙ্গে এনপিসিবিএল প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়

রূপগঞ্জের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত রনির মৃত্যু,থানায় মামলা দায়ের

সনদ নেই, নিবন্ধন নেই; তবুও কাশিমপুরে ‘ডাক্তার’ পরিচয়ে চলছে চিকিৎসা

সাতক্ষীরায় কোটি টাকার কোর্ট ফি জালিয়াতির মূলহোতা পিওন সিরাজুল গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইল সদরে ২৫ পরিবারকে ব্র্যাকের ২৫০ মুরগির বাচ্চা বিতরণ

ফুলপুরে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু


এই সম্পর্কিত আরও খবর

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী,তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড

ঈদ যাত্রায় সড়ক-রেল-নৌপথে নিহত ৪৩৮ জন

মুক্তিযুদ্ধের সময় থাকলে আমি মানুষের পক্ষে থাকতাম, জুলাইতেও মানুষের পক্ষেই ছিলাম: ফারুকী

ব্যাংকখাতে সুশাসন নিশ্চিতে সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

রাশিয়া গে‌লেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সরকারের ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি

‘ডেঙ্গুর চিকিৎসা পদ্ধতি শুনে আমি ভয় পেয়ে গেছি’

সনদসর্বস্ব শিক্ষার বদলে কর্মমুখী কারিকুলাম জরুরি: প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গুর প্রভাব বাড়ার আগেই প্রতিহত করতে চান ডিএসসিসি প্রশাসক

দীর্ঘ ছুটি শেষে কাল খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান