
স্টাফ রিপোর্টার সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পাঁচ গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষের পর এবার বিরোধ মিটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখতে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্থানীয় সালিশ বৈঠকে বসেন দুই পক্ষের লোকজন। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের হস্তক্ষেপে বিরোধ নিষ্পত্তির এ উদ্যোগে সবার প্রত্যাশা, পুরোনো তিক্ততা ভুলে আবারও মিলেমিশে বসবাস করবেন পাঁচ গ্রামের মানুষ। সংঘাতের বদলে ফিরবে সম্প্রীতি,অটুট থাকবে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। শুক্রবার তাহিরপুরের উজান তাহিরপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই পক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। সালিশ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া,সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল,উপজেলা বিএনপির সদস্য সাখাওয়াত হোসেন,এ কে এম নাসের উজ্জ্বল, সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সালিশকারীরা। সালিশ বৈঠকে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন,মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে মারামারি এবং বাজারে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিছিল করা তাহিরপুরবাসীর জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। আপনারা আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। অথচ নিজেদের মধ্যে এমন সংঘাতের দৃশ্য দেখে আমি বিস্মিত ও মর্মাহত।তিনি বলেন,মসজিদ নামাজ ও হেদায়েতের স্থান। সেই পবিত্র স্থানের মাইকে ঘোষণা দিয়ে মারামারির মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে এলাকার সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। ভবিষ্যতে বাজারে কোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে কেউ মিছিল-মিটিং করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে দুই লাখ টাকা জরিমানার ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।এমপি কামরুল আরও বলেন,ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে,সে জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পারস্পরিক বিরোধ ও ভুল-বোঝাবুঝিকে সংঘর্ষে রূপ না দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।পাশাপাশি একে অপরের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাসের আহ্বান জানান তিনি। তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন,এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমরা লজ্জিত। মধ্য তাহিরপুর ও চার গ্রামের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক,আত্মীয়তা ও সামাজিক বন্ধন রয়েছে। সাময়িক বিরোধের কারণে সেই সম্পর্ক নষ্ট হোক,তা কারও কাম্য নয়।শান্তিপূর্ণ সমাধানই সবার জন্য মঙ্গলজনক। সবাইকে পুরোনো তিক্ততা ভুলে মিলেমিশে বসবাস করতে হবে। এলাকার শান্তি রক্ষা আমাদের সবার দায়িত্ব। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সালিশকার মেহেদী হাসান উজ্জ্বল বলেন,একটি সংঘাত শুধু কয়েকজন মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এর প্রভাব পড়ে পুরো সমাজে। তাই কোনো বিরোধ দেখা দিলে সংঘাতে না জড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই ভালো। আমরা সবাই এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় লজ্জিত ও দুঃখিত। পাঁচ গ্রামের মানুষের মধ্যে আগের সেই সম্প্রীতি ফিরে আসুক, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,কয়েক দিন আগে বীরজয়-লক্ষ্মী-ধুতমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ক্রিকেট খেলার সময় একটি বল মধ্য তাহিরপুর গ্রামের অটোরিকশাচালক জালাল মিয়ার অটোরিকশায় গিয়ে পড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের হাফিজ মিয়ার সঙ্গে ক্রিকেট খেলোয়াড়দের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জেরে ওই দিন বিকেলে তাহিরপুর বাজারে ধুতমা গ্রামের জসিম উদ্দিনকে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের কয়েকজন মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে হাফিজ মিয়াকেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁর পক্ষের লোকজন।এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৭ অক্টোবর) দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন।এ সময় মধ্য তাহিরপুর গ্রামের চারটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট এবং একটি ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। আহতদের মধ্যে গুরুতর চারজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।তাঁদের প্রত্যাশা,অতীতের তিক্ততা ভুলে পাঁচ গ্রামের মানুষ আবারও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবেন। পারস্পরিক ভুল-বোঝাবুঝি ও বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে ভবিষ্যতে সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।





























