
তপন চক্রবর্তী, বিশেষ প্রতিনিধি:
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা উপলক্ষে সরকারি লম্বা ছুটিকে সামনে রেখে পাহাড়ের কন্যা নামে খ্যাত বান্দরবানে ইতোমধ্যে হোটেল-মোটেলে আগাম বুকিংয়ের হিড়িক পড়েছে। নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচদিনের ছুটিতে বান্দরবান ভ্রমণ প্রত্যাশীদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে অধিকাংশ হোটেলে ৭০-১০০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং নিয়ে রেখেছে ভ্রমণ প্রত্যাশীরা।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আরোও জানান, "বছরজুড়ে কম-বেশি প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকরা ভিড় জমান পাহাড়কন্যা খ্যাত অপরূপা বান্দরবানে। বিশেষ করে ছুটির দিন, শীত মৌসুম ও সরকারি ছুটিতে তা বাড়ে কয়েকগুণ। এরই ধারাবাহিকতায় প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণপিপাসুরা ভ্রমণে এসে নিজেদের আবাসন নিশ্চিত করতে পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট বুকিং করে নিচ্ছেন। যার কারণে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর জেলার অধিকাংশ হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ইতিমধ্যে ৭০-১০০ শতাংশ বুকিং হয়েছে"।
এছাড়া ২৫ অক্টোবর বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের প্রবারণা পূর্ণিমা হওয়ায় ভ্রমণ প্রত্যাশীদের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে অনেকাংশে। ফলে এই দিন গুলোতে ভ্রমণ প্রত্যাশীদের আগাম আবাসন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন তারা।
হোটেল গার্ডেন সিটির মালিক জাফর উল্লাহ বলেন, তাদের হোটেলে ২৫ টি কক্ষ রয়েছে। যা আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত শতভাগ এবং এর আগের দিন গুলোতেও প্রায় ৭০ শতাংশ বুকিং হয়েছে।
হোটেল ডি-মোর এর ফ্রন্ট ডেক্স ম্যানেজার মংচিং মারমা বলেন, তাদের হোটেলে ৪ থেকে ১০ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন শ্রেণির ৪৭ টি কক্ষ রয়েছে। যা আগামী ২০ থেকে ২৩ অক্টোবরের জন্য গড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ আগাম বুকিং হয়েছে।
হোটেল গ্রীন ল্যান্ড ফ্রন্ট ডেক্স ম্যানেজার মাহাবুব বলেন, তাদের হোটেলে ২ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা মূল্যের ২৭ টি কক্ষ রয়েছে। এসব কক্ষের প্রায় ৪০ শতাংশ কক্ষ আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবরের জন্য বুকিং হয়েছে।
হোটেল স্কাই ব্লু এর ম্যানেজার মামুন বলেন, তাদের হোটেলে ১২০০ থেকে ৫০০০ টাকা মূল্যের ২৬ টি কক্ষ থাকলেও আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবরের জন্য শতভাগ কক্ষ আগাম বুকিং করে নিয়েছেন ভ্রমণ প্রত্যাশীরা।
হোটেল গ্রেন্ড ভ্যালীর ম্যানেজার সুমন জানান, "তাদের হোটেলে ২৫০০ থেকে ৬০০০ টাকা মূল্যের মোট ৪৬টি কক্ষ রয়েছে। এসব কক্ষের ৯০ শতাংশ কক্ষ আগামী ২০ থেকে ২৩ অক্টোবরের জন্য আগাম বুকিং হয়ে গেছে। তবে সকল গ্রাহককেই ১০-১৫ শতাংশ মূল্য ছাড় দেয়া হয়েছে।
বান্দরবান হোটেল ওনার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দীন বলেন, "বছর জুড়েই বান্দরবানে কম-বেশি পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে পর্যটন স্পট গুলো। বিশেষ ছুটির দিনে এই সমাগম কয়েকগুন বাড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন দূর্গাপুজার ছুটি উপলক্ষ্যে আশানুরুপ পর্যটক সমাগমের সম্ভবনা রয়েছে। এ নিয়ে সকল হোটেল কতৃপক্ষকে আগত পর্যটকদের সার্বিক সেবা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে বান্দরবান ভ্রমণ প্রত্যাশীদের ভ্রমণের আগে আবাসন নিশ্চিত করতে পরামর্শ প্রদান করেন তিনি"।
বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) ফরিদ উদ্দীন জানান, "সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার ছুটিতে দেবতাখুম, নীলাচল, মেঘলা, শৈলপ্রপাত ও চিম্বুকসহ গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পর্যটন স্পটগুলোতে ইউনিফর্মের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন"।





























