
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গাইবান্ধার মানুষ। দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ও শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার অনিয়মে ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে গাইবান্ধায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাত্রা বেড়েছে। দিনের বেলায় কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনা ঘটছে। কখন বিদ্যুৎ যাবে, কখন আসবে—এ নিয়ে অনেক সময় গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। ফলে প্রচণ্ড গরমে ঘরে থাকা যেমন কষ্টকর হয়ে পড়ছে, তেমনি প্রয়োজনীয় কাজও ব্যাহত হচ্ছে। দিনের গরমের পর রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তি আরও বাড়ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে অনেক পরিবারকে ঘরের বাইরে, বারান্দা কিংবা খোলা জায়গায় অবস্থান করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিশু ও বয়স্করা। রাতের লোডশেডিংয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। পরীক্ষার্থী ও নিয়মিত পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের অনেকেই আলো ও গরমের কারণে স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও। কম্পিউটার, ফটোকপি, প্রিন্টিং, অনলাইন সেবা, ছোট কারখানা ও বিভিন্ন যন্ত্রনির্ভর ব্যবসার কার্যক্রম বিদ্যুৎ না থাকলে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বিদ্যুৎ না থাকায় একদিকে কাজের সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর, আইপিএস বা অন্য কোনো ব্যবস্থা করতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এতে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। গ্রাহকদের প্রশ্ন—বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট থাকলে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সময়সূচি স্পষ্টভাবে জানানো হচ্ছে কি না। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ কী এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়েও গ্রাহকদের মধ্যে পরিষ্কার তথ্যের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধানের পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের বিষয়ে গ্রাহকদের আগাম তথ্য জানানো প্রয়োজন। এতে অন্তত জরুরি কাজগুলো পরিকল্পনা করে করা সম্ভব হবে। গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অবসান এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সমস্যার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করবে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন হলে স্বচ্ছ সময়সূচি প্রকাশ ও তা যথাযথভাবে অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।





























