
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের ঘটনায় দুই সহকারী কমিশনারসহ ২০ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাকিয়া সরওয়ার লিমা।
তিনি জানান, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের ১০ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের ছয়জন এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের দুজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তার এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমাকেও পৃথক নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এসব নোটিশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া স্বাক্ষর করেছেন।
নোটিশে বলা হয়, সোমবার সকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন সদর উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে পাননি। তবে তাদের মধ্যে কয়েকজন ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় আগের দিনই স্বাক্ষর করে রেখেছেন।
এ ধরনের আচরণকে ‘গর্হিত অপরাধ’ উল্লেখ করে নোটিশে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর বিধান লঙ্ঘনের কথা বলা হয়েছে।
নোটিশে সংশ্লিষ্টদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
শোকজ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), ইউনূস আলী ও মোক্তার হোসেন এবং গাড়িচালক নাদিম হায়দার।
সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ ও চেইনম্যান রফিকুল ইসলামকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাতও রয়েছেন শোকজ পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায়।
জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিত থাকা এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কারণ পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“সবাই হয়তো দোষ করেননি। কেউ কেউ আগাম স্বাক্ষর করেছেন। বিষয়টি তদন্তের পর পরিষ্কারভাবে বলা যাবে,” বলেন জেলা প্রশাসক।
এর আগে সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর এলাকায় সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে যান প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। একই চত্বরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের কার্যালয় এবং ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয় রয়েছে।
সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে প্রতিমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। ৯টার পরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ায় তিনি হাজিরা খাতা পরিদর্শন করেন।
খবর পেয়ে প্রায় ২০ মিনিট পর সেখানে উপস্থিত হন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া। পরে ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমাও সেখানে উপস্থিত হন।
আকস্মিক পরিদর্শনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।





























