
। গোলাম রাব্বি, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুর উপজেলার জৌতদৈবকী এলাকায় এক ভাটা ব্যবসায়ী ও বিএনপির এক কর্মীর বাড়িতে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এমএসবি ভাটার স্বত্বাধিকারী আব্দুল হালিম লালপুর থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১৫ জনকে আসামি করে লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, পূর্ববিরোধের জেরে শুক্রবার (২৬ জুন) ভোররাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল ব্যক্তি তার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রধান ফটক ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তার অভিযোগ, হামলার সময় বাড়িতে থাকা নারীদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয় এবং তাদের পরিহিত স্বর্ণালংকার খুলে নেওয়া হয়। পাশাপাশি ঘরের আলমারি ও ওয়ারড্রোব ভেঙে নগদ ৩২ লাখ টাকা, প্রায় সাড়ে ১১ ভরি স্বর্ণালংকার, জমির গুরুত্বপূর্ণ দলিল, ব্যাংকের চেকবই, পাসপোর্টসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। হামলায় বাড়ির আসবাবপত্রসহ অন্যান্য সম্পদেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী আব্দুল হালিম দাবি করেন, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার আগে মামলা না করার জন্য তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এজাহারে নাম থাকা সাকলাইন। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার দাবি, তার স্ত্রী সুরাইয়া নাসরিন সীমার সঙ্গে আব্দুল হালিমের দীর্ঘদিনের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে এবং সেই বিরোধের জেরেই তাকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে আগে থেকেই থানা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। এ বিষয়ে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, লিখিত এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




























