
গাজী হাবিব, সাতক্ষীরা: সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অবৈধভাবে প্রবেশ করে মাছ, কাঁকড়া ও অন্যান্য বনজ সম্পদ আহরণের অভিযোগে ৬৭ জেলেকে আটক করেছে বন বিভাগ। এ সময় দায়ের করা হয়েছে ১৪৮টি মামলা। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৮০ জনকে। তাদের মধ্যে ১৩ জন পলাতক রয়েছেন। অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ, কাঁকড়া, মধু, হরিণের মাংস, জাল ও মাছ ধরার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৫৬টি নৌকা ও চারটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার জব্দ করেছে বন বিভাগ।বনজ সম্পদ আহরণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের বনজ সম্পদ আহরণ ও পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় গত মঙ্গলবার থেকে বনজীবীদের পুনরায় সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করলেও নির্ধারিত নিয়ম ও শর্ত মেনে বনজ সম্পদ আহরণ করতে হবে।সাতক্ষীরা রেঞ্জের বন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ১৬৭ দশমিক ৫ কেজি চিংড়ি, ১ হাজার ৪৯৫ কেজি কাঁকড়া, ২০০ কেজি সাদা মাছ ও ১ হাজার কেজি মধু জব্দ করা হয়।এ ছাড়া অভিযানে ১৪৫ দশমিক ২৫০ কেজি হরিণের মাংস, ৬৬ হাজার ৬৬২ মিটার দোনদণ্ডী, ৭৮৬টি মাছ ধরার আটন, ৩৫টি দা, পাঁচটি কুঠার ও ৫৯টি বিষের বোতল জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে ১৮৪ দশমিক ৫ ঘনফুট বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি কাঠ এবং ২০ দশমিক ৩১ ঘনফুট গোলকাঠও জব্দ করা হয়।বন বিভাগ সূত্র আরও জানায়, এসব ঘটনায় মোট ১৪৮টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১টি পি অ্যান্ড আর, ১১৭টি ইউডিওআর এবং একটি সিওআর মামলা রয়েছে। এসব মামলায় মোট ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬৭ জনকে আটক করা হয়েছে এবং ১৩ জন এখনো পলাতক রয়েছেন।বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নির্দিষ্ট সময়ের নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিষেধাজ্ঞার সময়ে কোনোভাবেই জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল বা অন্য কোনো বনজীবীর অবৈধভাবে বনে প্রবেশের সুযোগ নেই। এরপরও কেউ কেউ গোপনে বনে প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের চেষ্টা করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বলেন, তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার সময়ে বন বিভাগের অভিযানে ১৪৮টি মামলা করা হয়েছে এবং ৬৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ জাল, ফাঁদ, মাছ, কাঁকড়া, মধু, হরিণের মাংসসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে বন বিভাগের নির্দেশনা ও নির্ধারিত নিয়ম মেনেই তাঁদের বনে যেতে হবে। কেউ অবৈধভাবে মাছ, কাঁকড়া বা অন্য কোনো বনজ সম্পদ আহরণ করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করেন সাতক্ষীরা উপকূলের হাজারো মানুষ। নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাঁদের বনভিত্তিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জীবিকার ওপর চাপ তৈরি হয়। তবে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে সুন্দরবনের মাছ, কাঁকড়া, মধু ও অন্যান্য সম্পদের উৎপাদন এবং জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে নির্দিষ্ট সময়ের নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর নজরদারির বিকল্প নেই।





























