
রানীনগর প্রতিনিধি :
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহের পরীক্ষামূলক জরিপ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রাণীনগর, একডালা ও মিরাট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ জরিপ পরিচালনা করা হবে। উপকারভোগী নির্বাচনে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা মূল্যায়নের পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে একাধিক ধাপে যাচাই করা হবে।
সোমবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে আয়োজিত অবহিতকরণ প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল হালিম। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে।
তিনি জানান, জরিপ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য গত ১০ ও ১১ অক্টোবর তিনজন তত্ত্বাবধায়ক ও ১২ জন তথ্য সংগ্রহকারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন তত্ত্বাবধায়ক ও চারজন তথ্য সংগ্রহকারী দায়িত্ব পালন করবেন।
উপকারভোগী নির্বাচনে পরিবারের নিজস্ব দাবি বা মৌখিক বক্তব্যের পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আর্থসামাজিক অবস্থা মূল্যায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে পিএমটি পদ্ধতি অনুসরণ করে পরিবারের জীবনযাত্রা ও বিভিন্ন সূচকভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। ফলে শুধু নিজেকে দরিদ্র দাবি করলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
সমাজসেবা কর্মকর্তা আরও জানান, জিপিএস সুবিধাযুক্ত ট্যাবলেটের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও জমা দেওয়া হবে। তথ্য সংগ্রহের পর তত্ত্বাবধায়কেরা সেগুলোর নির্ভুলতা ও সামঞ্জস্য যাচাই করবেন। পরে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কমিটি তথ্যগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে।
তিনি বলেন, পুরো কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করছে সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ওপর। তাই তথ্য সংগ্রহকারীদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে যথাযথভাবে যাচাই নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের পরিবারের প্রকৃত অবস্থা অনুযায়ী সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করে সহযোগিতা করতে এবং ভুল তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়।
ফ্যামিলি কার্ডের জরিপে অংশগ্রহণ বা তথ্য প্রদানের জন্য কোনো অর্থ দিতে হবে না বলেও জানানো হয়। কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ অর্থ দাবি করলে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান সমাজসেবা কর্মকর্তা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল হক লিটন, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোজাক্কির হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মতিউর রহমান উজ্জ্বলসহ তথ্য সংগ্রহকারী ও তত্ত্বাবধায়কেরা উপস্থিত ছিলেন।





























